Tuesday, April 30, 2013

মাত্র ২০০ ডলালে গুগলের নোটবুক


গুগলের ল্যাপটপের দাম ২০০ ডলার



গুগল অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমভিত্তিক টাচস্ক্রিন নোটবুক বানাচ্ছে। খবরটি নিশ্চিত করেছে মার্কিন চিপ জায়ান্ট ইনটেল। বিজিআর-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যান্ড্রয়েড নোটবুকগুলোর দাম হবে  মাত্র ২০০ ডলার।
বিজিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গুগল এখন জনপ্রিয় অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের নোটবুক কম্পিউটার বানিয়ে বাজার ধরার চেষ্টা করছে।
ইনটেলের চিফ প্রোডাক্ট অফিসার ডাডি পার্লমাটার নোটবুকগুলোর দাম ২০০ ডলার হবে বলে নিশ্চিত করেছেন।

জাতীয় অহংকার ক্ষুণ্ণ হবার ভয়ে ৪০০০ গার্মেন্টস কর্মীকে উদ্ধারে বিদেশী সহায়তা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

উদ্ধারকাজে বিদেশী সহায়তা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ : টেলিগ্রাফ

নয়া দিগন্ত অনলাইন

সাভারে [২৪ এপ্রিল ২০১৩] ভবনধসের পর আটকা পড়া লোকদের উদ্ধারের জন্য ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশ সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিল। এসব প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে আরো সহজে উদ্ধারকাজ চালানো যেত এবং অনেক লোকের জীবন বাঁচানো যেত। কিন্তু এতে বাংলাদেশের জাতীয় অহংকার ক্ষুন্ন হতে পারে- এমনটা ভেবে পররাষ্ট্র এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। রোববার ব্রিটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা ডেইলি টেলিগ্রাফে এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
নয়া দিল্লি থেকে ডিন নেলসন ও ঢাকা থেকে ডেভিড বার্গম্যানের লেখা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার রানা প্লাজার বিশাল ধ্বংস্তূপের মধ্যে চাপা পড়ে অন্তত ৩৭০ জন নিহত হয়। জীবিতদের বাঁচানোর জন্য অপ্রশিক্ষিত স্থানীয় উদ্ধারকারীরা অপর্যাপ্ত সরঞ্জাম নিয়ে কাজে নামে।
পত্রিকাটিতে কূটনীতিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, কয়েকটি দেশ অভিজ্ঞ উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তারা তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে আরো বেশি জীবন বাঁচাতে পারত। কিন্তু গত সপ্তাহে ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়।
ডেইলি টেলিগ্রাফ যেসব নথিপত্র দেখেছে, তা থেকে দেখা যায়, জাতীয় অহংকার ুণœ হতে পারে- এই আশঙ্কায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাহায্য প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। এমনকি জাতীয় স্পর্শকাতর বিষয়টিতে ‘মুখ রক্ষার’ জন্য সাহায্যের বিষয়টি নিয়ে হইচই না হওয়ার কথা বলেও বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের তাতে রাজি করানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি।
ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগের এক মুখপাত্র ‘বিশেষায়িত কারিগরি পরামর্শ’ প্রদানের প্রস্তাব দেয়ার কথা নিশ্চিত করে বলেছেন, সেটি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব সি কিউ কে মুশতাক আহমেদ বলেছেন, তিনি শুনেছেন যে, তার মন্ত্রণালয় উদ্ধারকাজে বিদেশি সহায়তার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে। তবে তিনি সরাসরি এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি, তিনি বলেছেন এর প্রয়োজন নেই।’
দুর্ঘটনার পরপরই জাতিসঙ্ঘ কর্মকর্তারা যখন বুঝতে পারলেন, বিপুলসংখ্যক লোক ধ্বংস্তূপের মধ্যে চাপা পড়ে আছে, তখন বাংলাদেশ নিজের সামর্থ্যে উদ্ধারকাজ করতে পারবে কি না তা নিয়ে পশ্চিমা কূটনীতিকদের সাথে শলাপরামর্শ করেন। তারা একমত হন, বাংলাদেশ এই কাজ করতে পারবে না। তারা তখন ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশকে বিষয়টি অবগত করে জানতে চান, তারা উদ্ধাকারী ও ভারী সরঞ্জাম পাঠিয়ে সহায়তা করতে পারবে কি না।
এক কর্মকর্তা বলেন, ‘জাতিসঙ্ঘ ব্রিটেনসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে সহায়তার উপর জোর দেয়। কিন্তু প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হয়।’
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, বিদেশি সাহায্য না নিয়ে সাভারের উদ্ধার কার্যক্রম স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর নির্ভর করা হয়। এসব উদ্ধাকারীদের সুরক্ষাদায়ক পোশাক ছিল না, এমনকি অনেকে প্লাস্টিকের স্যান্ডেল পরেও কাজে নেমেছিল। ডেইলি টেলিগ্রাফে শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চিকিৎসকেরা স্বেচ্ছাসেবক এক গার্মেন্ট শ্রমিককে এক নারীর হাত কেটে তাকে উদ্ধারের নির্দেশনা দিচ্ছেন। চাপা পড়া অনেক শ্রমিক দিনের বেলার ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় বেঁচে ছিলেন নিজের প্রশ্রাব পান করে।
ধ্বংস্তূপের নিচে চাপা পড়া লোকদের স্বজনরাও উদ্ধারকাজ বিলম্বিত হওয়ার জন্য সরকারের সমালোচনা করেছে। কর্মকর্তারা গত সপ্তাহেই কংক্রিট সরানোর কাজে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার পক্ষপাতী ছিলেন এই যুক্তিতে যে, ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় কারো বেঁচে থাকার কথা নয়। কিন্তু ধ্বংস্তূপের ভেতর থেকে অনেক লোককে জীবিত উদ্ধার এবং অনেকে কান্নার শব্দ শোনা যাওয়ায় ওই পরিকল্পনা বিলম্বিত হয়। 


Sunday, April 28, 2013

How Would I Know if My Wife Loves Me

A man asked the wise man, how would I know if my wife loves me?

The man replied, when she does 14 things be assured that she loves you .
The man asked, so what are the 14 things?
The wise man answered:

1- If she likes to hear about your demeanour be sure that she loves you.

2- If she didn’t get angry when you contradicted her opinion.

3- If she becomes sad because of your sadness or anger.

4- If she always tries to create topics to make conversation with you.

5- If she always consults you before she makes something or takes a decision.

6- If she gets very happy when you gift her with something even if it’s a very simple gift.

7-if she always tries to help you or even do some of your tasks.

8- If she worries about you in your absence.

9- If she cares to do what pleases you, and never repeats what angers you.

10- If she doesn’t care about how little you earn (money).

11- If she patiently bears the harm which was caused because of you.

12- If she likes to share whatever you like and cares to become a part of your world and your hobbies.

13- She don’t feel shy of whatever you do.

14- She always gives you good news personally, instead of you hearing from a third party.
We ask Allah to bless us with true love and to assist us in maintaining it, Aameen.

Learn Quran With Tajweed at Home with expert Quran Tutors 

http://www.thequraninstitute.com

কেউ আমাকে ভালোবাসে না

স এস সি পরীক্ষার রেজাল্টের দিন রাতের বেলা
মুকুল বাড়ির এগারো তলার ছাদে একদম কিনারে দাঁড়িয়ে।
অঝোরে পানি পড়ছে ওর চোখ দিয়ে!
'এতো চেষ্টা করলাম তারপরো রেজাল্ট ভালো হলোনা! আমি তো চেষ্টা করেছিলাম, হলোনা তাতে আমার কি দোষ! বাবা তাই বলে আমাকে এত্তো বকবে! বললো আমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবেনা! রিকশা চালাতে বললো! আমার কি দোষ! আমি তো রাত জেগে জেগে পড়েইছিলাম! তখন তো সবাই বলেছে আমি ফ্যামিলির মুখ উজ্জ্বল করবো! আর এখন সবাই আমাকে বকছে! আম্মাটাও মুখ ভার করে বসেছিলো! বাবাকে আটকাচ্ছিলোনা! কি হতো আম্মা যদি তখন একটু আমার পক্ষ নিতো!
সবাই শুধু আমাকে বকে! কেউ আমাকে ভালোবাসেনা! আমি না থাকলে কারো কিছু যাবে আসবেনা!
কেউ আমাকে বোঝেনা, সবাই শুধু আমার রেজাল্ট বোঝে! থাকবোনা আর আমি!' -
ভাবতে ভাবতে চোখ মোছে মুকুল।
সুপারম্যান টিভি সিরিজটা তার অনেক প্রিয় ছিলো। উড়তে তো পারবেনা, তাই পাইলট হবার খুব ইচ্ছে ছিলো মুকুলের। ইচ্ছে ছিলো জীবনে একবারঅন্তত প্লেনে চড়বে। তা আর হলো কই!
বুকে প্রচন্ড অভিমান নিয়ে লাফ দিলো মুকুল, বলতে গেলে নিজেকে হাওয়ার উপর ছেড়ে দিলো।
এক সেকেন্ড পর বাড়ির সামনের বাগানে ধুপ করে কিছু পড়ার শব্দ হলো। তারপর সব চুপ! কেউ শুনলোনা সে শব্দ!
একটু পর মুকুলের বাবা আলম সাহেব এশার নামায পড়ে বাসার সামনে এসে দাড়ালেন। বাগানে বস্তামতো কি যেন একটা পড়ে আছে! রাতের বেলা চশমা ছাড়া ঠিকমতো দেখতে পান না উনি। চশমাটা চোখে লাগালেন উনি। ভালো করে তাকালনে!
মুকুউউউউউউউল!!! ­­! বিকট চিৎকারে বাড়ি কেপে উঠলো! সবাই শুনলো আলম সাহেবের সেই চিৎকার। শুধু শুনতে পেলনা একটা অভিমানী বাচ্চা! যার রেজাল্ট একটু খারাপ হয়েছিলো!
মুকুল মারা যাবার পর সবচেয়ে বেশি কেদেছিলেনমুকুলের বাবা! এখনো কাদেন! ছেলের প্রবেশপত্র বুকে জড়িয়ে ধরে কাদেন! যে মুকুল ভেবেছিলো সে না থাকলেও তার ফ্যামিলির কিছু যাবে আসবেনা, সেই মুকুলের ফ্যামিলি আজ জীবন্মৃত। বাড়ির সবচেয়ে চঞ্চল ছেলেটাই তো আজ নেই! সারা বাড়ি দুষ্টুমি-হাসি-চ ­­িৎকার-চেচামেচি ­ত­ে আর ভরে থাকেনা! মুকুলদের বাড়ির কেউ আর হাসেনা! মুকুলের খাবারের প্লেটটায় খাবার ওঠেনা! মুকুলের মা খালি প্লেটটার দিকে নিঃশব্দে চেয়ে থাকেন। কখন যে চোখের পানিতে ওনার গাল ভিজে ওঠে টেরও পান না উনি!
কেউ জানেনা এখানে কারো কোন দোষ ছিলোনা! মুকুলশুধু বুঝতে শেখেনি সে তার পরিবারের কাছে কতো গুরুত্বপূর্ণ। অন্য কেউ এটা স্বপ্নেও ভাবেনি মুকুলকে এটা বোঝানো উচিৎ।
মুকুল কাল শিক্ষক হতে পারতো, পাইলট হতে পারতোহয়তো প্লেনেও চড়তে পারতো!
তার কিছুই হলোনা!
সামনে এস এস সি ২০১৩ এর রেজাল্ট, এইচ এস সি পরীক্ষাও চলছে। যারা পরীক্ষা দিচ্ছো, বা দিয়েছো তাদের জন্যে বলি তোমার কিছু হলে তোমার পরিবারের অবস্থা এর চাইতেও ভয়াবহ হবেগ্যারান্টি আমি নিতে পারি। যেকোন অবস্থাতেই তুমিই তোমার পরিবারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষণিকের ভূল বোঝাবুঝিতে এমনকিছু কখনোই করে বসোনা। আর যাদের আপনজনেরা পরীক্ষা দিচ্ছেন, তাদের প্রতি একটাই অনুরোধ বিপদে প্রিয় মানুষটির পাশে থাকুন। তাকে বোঝার চেষ্টা করুন। আপনি পাশে থাকলে সে এবার যা করতে পারলোনা, পরের যেকোন সময় তার ডাবল করে পুষিয়ে দেবে, এর গ্যারান্টি আমি নিচ্ছি, শুধু আপনি তার পাশে থাকুন।
আমাদের সবার একটাই কামনা রেজাল্টের দুদিন পরপত্রিকার পাতায় আর কোন ছোট ভাইবোনের আত্মহত্যার খবর যেন আমারদের আর পড়তে না হয়!:(
(collected)

সাভারে বিল্ডিং ধ্বসে হত্যাকান্ড : লাশের স্তূপে স্তব্ধ মৃত্যুপুরী

চুয়াডাঙ্গায় ২০১৩ নির্বাচনে ৫ ইউনিয়নে জামায়াতের ৩ জন চেয়ারম্যান

চুয়াডাঙ্গায় নির্বাচনে ৫ ইউনিয়নে জামায়াতের ৩ জন চেয়ারম্যান | দেশজুড়ে | Rtnn.net

Tuesday, April 16, 2013

প্রথম আলোর যে লেখাটি নিয়ে বিতর্ক

হাসনাত আবদুল হাই: মেয়েটি অনেকক্ষণ ধরে তার পেছনে পেছনে ঘুরছে, সেই অনুষ্ঠান শেষে হলঘর থেকে বেরিয়ে আসার পর থেকে যখন তার চারদিকে ভক্ত ও তদবিরবাজদের ভিড়। এত ছেলেমেয়ের মাঝখানে সাদামাটা প্রায় ময়লা কাপড়ে উসর-ধূসর চুল মাথায় বিদ্ঘুটে রঙের সালোয়ার-কামিজ পরা মেয়েটির প্রতি তার চোখ পড়ার কথা না, তবু পড়ল। এতে তিনি বিস্মিত হলেন এবং কিছুটা বিরক্তও। অনেকেই তার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে। কেননা, তিনি শুধু একজন সেলিব্রিটি নন, ইংরেজিতে যাকে বলে ফেভার। তা অন্যের প্রতি দেখানোর মতো তার যথেষ্ট ক্ষমতাও আছে। সেলিব্রিটির পেছনে, ছেলেমেয়েরা ঘোরে মুগ্ধতার জন্য অথবা কিছু পাওয়ার আশায়। সংসারে সবারই কিছু না কিছু চাওয়ার আছে। জীবন যতই জটিল হচ্ছে, চাওয়ার তালিকা বেড়েই যাচ্ছে। চারদিকে প্রতিযোগিতার দৌড় জীবনকে আরও জটিল করে তুলছে।


মেয়েটি নাছোড়বান্দা, তিনি যতই তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন, সে ঘুরে এসে দাঁড়ায় সামনে, প্রথম সারিতে না হলেও দ্বিতীয় কি তৃতীয় সারিতে। দেখতে সে সুশ্রী নয়, তবে তার চোখে-মুখে তীক্ষ একটা ভাব আছে, নতুন ছুরির মতো। তার চোখের নিচে ক্লান্তির কালো দাগ, মুখে একধরনের রুক্ষতা। আগে সেখানে যে কমনীয়তা ছিল তা মুছে ফেলেছে। ঠোঁট দুটি চকচক করছে, যেন গ্লিসারিন মাখানো। আসলে সে ঘন ঘন জিভ দিয়ে শুকনো ঠোঁট ভিজিয়ে নিচ্ছে। গলার নিচে কণ্ঠি বের হয়ে এসেছে, ওপরের দিকে গলার মধ্যে কয়েকটি ভাঁজ, সেখানে ঘামের পানি জমে আছে রুপার চিকন হারের মতো। শুকনো খড়ের মতো চুল উড়ছে বাতাসে। প্রায় ময়লা সবুজ ওড়না লাল কামিজে জড়ানো শরীরের ওপরে একটা স্তন ঢেকে রেখেছে, বুকের অন্য পাশে ওড়না কামিজের কাপড়ের ওপর ছড়িয়ে রাখা, প্রায় সমতল দুই দিকেই, হঠাৎ দেখে ছেলে কি মেয়ে বোঝা যায় না। মেয়েটি বাংলাদেশের পতাকার রং দিয়েই সালোয়ার-কামিজ বানিয়েছে অথবা সেই রকম তৈরি করা কাপড় কিনেছে। আজকাল অনেকেই এভাবে কাপড় পরে, কিছুটা দেশপ্রেম দেখাতে, কিছুটা ফ্যাশন স্টেটমেন্টের জন্য। মেয়েটা দেখতে সুশ্রী না হলেও বয়সের জন্য একধরনের আকর্ষণ আছে তার শরীরে। অগোছালো বেশবাস সেই আকর্ষণে একটা বন্যতার ভাব সৃষ্টি করেছে, যেন সে যেখানে খুশি লাফিয়ে পড়তে পারে। দেখেই মনে হয় খুবই বেপরোয়া আর অ্যাগ্রেসিভ।


বুঝলেন স্যার, ওরা আমার সঙ্গে পলিটিকস করছে। সামনের সারিতে থাকতে দিচ্ছে না। অথচ এই কদিন আমি সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে থেকে স্লোগান দিয়েছি। আমার গলার স্বর এত উঁচু যে মাইক্রোফোনের বলতে গেলে দরকার হয় না। এক মাইল দূর থেকেই শুনে বুঝতে পারবেন এটা আমার গলার স্বর। মিটিংয়ের জন্য স্লোগানের দরকার, স্লোগানই মিটিং জমিয়ে তোলে। আপনি নিশ্চয়ই জানেন। অভিজ্ঞ লোক আপনি। আমি কয়েক দিন মিটিং জমিয়ে রেখেছি শুধু আমার গলার জোরে স্লোগান দিয়ে দিয়ে। কাগজে আমার নাম এসেছে। টেলিভিশনে আমাকে প্রায়ই দেখিয়েছে। পাবনা থেকে দেখে আমার ছোট বোন ফোনে বলেছে, আপু তোকে দেখা গিয়েছে। কয়েকবার। তুই খুব মাতিয়ে রেখেছিস। আমার মাও প্রশংসা করেছেন দেখে। কেন করবেন না? নিজের মেয়ের খ্যাতিতে কোন মা গর্ব অনুভব করে না? বাবা? না, তিনি কিছু বলেননি। বেতো রুগি, বিছানায় শুয়ে থাকেন সব সময়। শুনেছি, ছোট বোনকে বলেছেন, ও ঢাকা গেল পড়াশোনা করতে। এখন মিছিল-মিটিং আর মানববন্ধন করে সময় নষ্ট করছে। ওর পড়াশোনার কী হবে? জমির ভাই তো পড়ার কথা বলেই ওকে নিয়ে গেলেন ঢাকায়। এখন এসব কী হচ্ছে? ওর ভবিষ্যৎ আমার চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।


জমির ভাই, মানে আমার বাবার অনাত্মীয় জমির সাহেবকে জানেন স্যার? আমরা তাকে চাচা বলি। তিনি একজন রাজনৈতিক নেতা, মফস্বল শহর পাবনা থেকে শুরু করেছিলেন রাজনীতি, আস্তে আস্তে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঢাকায় পৌঁছেছেন। বাবার সঙ্গে জানাশোনা অনেক দিন থেকে। আগে প্রায় প্রতিদিন আসতেন, ঢাকায় আসার পর যান মাঝেমধ্যে। একদিন আমাদের বাসায় এসে বললেন, তোমার বড় মেয়েটা বেশ চটপটে আছে। ওকে ঢাকায় পাঠাও। মফস্বলে থেকে কত দূর আর যেতে পারবে? এখানে কি-ই বা সুযোগ রয়েছে? এখন সবই তো ঢাকায়।
ঢাকায় গিয়ে কী করবে সীমা? ওর তো গ্র্যাজুয়েশনও হয়নি। বাবা বলেছিলেন।


শুনে জমির চাচা উত্তর দিয়েছিলেন, কেন? ঢাকাতেই গ্র্যাজুয়েশন করবে। সেই ব্যবস্থা করে দেব আমি। কলেজ ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে জানাশোনা আছে। বললেই অ্যাডমিশন হয়ে যাবে। হোস্টেলেও জায়গা পেতে অসুবিধা হবে না। সবই তো রাজনৈতিক দলের কন্ট্রোলে, যখন যারা ক্ষমতায় থাকে, তাদের। এখন আমরা আছি, সব সিদ্ধান্ত আমরাই নিই। কে অ্যাডমিশন পাবে, কার জন্য সিট খালি করাতে হবে—এ সবই আমাদের আওতায়। বুঝলেন না, একটা সিস্টেম তৈরি হয়ে গিয়েছে। বেশ সুন্দর চলছে। কেউ বাদ সাধছে না, কোনো হট্টগোল নেই। সবাই পাবে এই সুযোগ, পালা করে। বেশ গণতান্ত্রিক এই ব্যবস্থা। তা ছাড়া দলের কেউ না হলেও এসব সুযোগ পাওয়া যায়। একটু খরচ করতে হয় আর কি। সে যাই হোক, আপনার মেয়েটার দায়িত্ব আমি নিলাম। ও ঢাকায় যাবে, কলেজে ভর্তি হবে, হোস্টেলে থাকবে। পড়াশোনা করবে। মাঝেমধ্যে আমাদের পার্টি অফিসে এসে এটা-ওটা নিয়ে কাজ করে সাহায্য করবে।


কী কাজ করবে? কী নিয়ে সাহায্য করতে হবে সীমাকে? বাবার স্বরে উদ্বেগ ও ব্যাকুলতা।
তেমন কিছু না। ধরেন নেতার জন্য বক্তৃতা লেখা, প্যামফ্লেট তৈরি, প্রচার পুস্তিকা লেখা, ব্যানারের স্লোগান—এই সব আরকি। বড় ধরনের কোনো কাজ না, জটিলও না। খুব বেশি সময় দিতে হবে না তাকে। পড়াশোনার কোনো ক্ষতি হবে না।


বাবা শুনে আমার দিকে তাকিয়েছেন। মাথা নেড়ে বলেছেন, ও অমন কাজ আগে কখনো করেনি। পারবে না। তা ছাড়া ওই সব নিয়ে থাকলে পড়াশোনা লাটে উঠবে।

জমির চাচা আশ্বাস দিয়ে বললেন, কাজগুলো সব সোজা। লেখালেখি, তা-ও বাংলায়। ছোট ছোট আকারে। তাতে সময় বেশি লাগবে না। আর পড়াশোনার সময় তো সে এসব কাজ করবে না, অবসরে করবে। সন্ধ্যার পর। কখনো রাতে।


সন্ধ্যার পর, রাতে? বাবা খুব চিন্তিত হয়ে তাকিয়েছেন জমির চাচার দিকে। বলেছেন মাথা দুলিয়ে কাঁপা গলায়, শুনেছি, সন্ধ্যার পর ঢাকার রাস্তাঘাট নিরাপদ না। গুন্ডা-বদমাশ ঘুরে বেড়ায়। ইভটিজার পিছু নেয়।
আরে না। ওসব বাড়িয়ে বলে লোকে। ঢাকা রাজধানী, সেখানে আইনশৃঙ্খলা থাকবে না তো থাকবে কোথায়? অন্য সব মেয়ে থাকছে না ঢাকায়? কাজ করছে না, ঘোরাঘুরি করছে না? মজার ব্যাপার কি জানেন?
কী? বাবার চোখে একরাশ কৌতূহল এবং পুরোনো প্রশ্ন।


ঢাকায় মফস্বলের মেয়েরাই বেশি ফ্রি, বেশি দুরন্ত, বেশ সাহসী। ওরা কাউকে পরোয়া করে না। সব পার্টিতেই তারা আছে। টেলিভিশনে দেখেন না, মিছিলের সময় সামনে থেকে কেমন হাত তুলে জোরে জোরে স্লোগান দেয়। মফস্বলের মেয়েরাই ঢাকায় আন্দোলন জমিয়ে রাখে। বলতে গেলে ওরাই আসল কর্মী দল। ছেলেগুলো ফাঁকিবাজ। তারা মেয়েদের দিয়েই সব কাজ করিয়ে নিতে চায়। শুধু বাহবা আর টাকা নেওয়ার সময় সামনে থাকে। সব কাজের ক্রেডিট নেয়। জমির চাচা অনেকক্ষণ কথা বলে থামেন।


স্যার, কিছুই জানা ছিল না আমার, মফস্বলের মানুষ, তা-ও আবার মেয়ে। অল্প সময়ে অনেক কিছু শিখলাম। হয়তো আরও শেখার আছে। মেয়েদের সারা জীবনটাই জানার। ছাত্রী হয়েই থাকতে হয় সবকিছু জানার জন্য। অ্যাপ্রেন্টিস বলে না? আমরা হলাম তাই। কিন্তু আমি আর পারছি না স্যার। আমার একটা চাকরি দরকার। ভদ্রলোকের, ভদ্রমেয়ের মতো চাকরি। আপনি দিতে পারেন। আপনার তো সেই সুযোগ রয়েছে। আমার বেশি কিছু দেওয়ার নেই, সবই তো দেখতে পাচ্ছেন। প্রায় দেউলে হয়ে গিয়েছে শরীর আর মন। দেওয়ার মতো কিছু হয়তো একসময় ছিল, এখন তেমন কিছু নেই। মিথ্যে বলব কেন। আপনি অভিজ্ঞ লোক। সেলিব্রিটি।
তিনি বিরক্ত হয়ে বলেন, তোমার একটা দোষ আছে। তুমি বেশি কথা বল।


মেয়েটি শুনে মিইয়ে যায়। তারপর বলে, জমির চাচা কোথায়? আছেন, তিনি তার জায়গাতেই আছেন, দলের কাজ করছেন উঠে-পড়ে, দলে আরও কিছুটা ওপরে উঠতে পেরেছেন। অনেক ফন্দিফিকির জানেন তিনি। কী করে ডিঙিয়ে যেতে হয়, ওপরের মানুষকে তুষ্ট করতে হয়, সব জানা আছে তার। তিনি আরও ওপরে উঠবেন।


আমি? না, আমার পক্ষে ওপরে ওঠা সম্ভব হবে না। যেটুকু উঠেছি, ওই পর্যন্ত। মানববন্ধন করি, মিছিলে যাই, মঞ্চ তৈরি করে তার ওপরে উঠে গলা ফাটিয়ে স্লোগান দিই। টেলিভিশনে দেখায়। কাগজে নাম ছাপা হয়। পাবনা থেকে ছোট বোন প্রশংসা করে ফোনে জানায়। মা-ও খুশি, তার মেয়েকে টেলিভিশনে দেখা যাচ্ছে, সবাই তার কথা বলছে। মা আমাকে নিয়ে গর্ব করেন বলে শুনেছি।


পড়াশোনা? হ্যাঁ, জমির চাচা তাঁর কথা রেখেছিলেন। কলেজে অ্যাডমিশন হয়েছে। হোস্টেলে শেয়ারে সিট পেয়েছি, মানে দুজনে একসঙ্গে থাকতে হয়। ক্লাস বেশি হয় না, প্রায়ই বন্ধ থাকে। আমরাও ফুরসত পাই না। হরতাল, মিটিং, মিছিল। মঞ্চে উঠে স্লোগান দেওয়া। এতে অনেক সময় চলে যায়। তবে কলেজে নামটা আছে খাতায়। হোস্টেলে সিটটা আছে এখনো। কেউ আপত্তি করে না, কেন করবে? প্রায় সবাই তো আমার মতো অবস্থার। কারও অনুগ্রহে অ্যাডমিশন আর সিট পাওয়া। সন্ধ্যার পর পড়াশোনা? না, সেটা প্রায় কারোরই হয় না। সবাই কিছু না কিছু নিয়ে ব্যস্ত, টাকার ধান্দায় ঘোরে। আমি পার্টি অফিসে যাই। কখনো একা, কখনো ছাত্রনেতাদের সঙ্গে। জমির ভাইয়ের অফিসে বসে বক্তৃতা লিখি, কখনো লিফলেট। কম্পিউটারে প্রিন্ট আউট বের করে দেখাই। তিনি প্রুফ দেখে দেন। আবার টাইপ করি। এসব কাজ ছেলেরা করতে চায় না। তারা মারধর, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ভাঙচুর—এসব নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কাজ শেষ হলে আড্ডা দেয়, ড্রিংক করে একসঙ্গে বসে।


ড্রিংক? না, না। চা-টা না। অ্যালকোহল। হুইসকি। বিয়ার। আমাকেও খেতে হয়েছে পাল্লায় পড়ে। ওদের সঙ্গে থাকতে হলে তাদের সমর্থন পাওয়ার জন্য নানাভাবে সঙ্গ দিতে হয়। এড়ানোর উপায় নেই। ওরা নেতাদের কাছে নালিশ করলে আমাদের ভাতা বন্ধ। দেড় হাজার টাকা ভাতা পাই আমি অফিস থেকে, তাই দিয়ে কলেজে পড়া, হোস্টেলে থাকা। খুব মূল্যবান সেই ভাতা। বোকামি করে হারাতে পারি না। তাহলে যে পথে বসব।
জমির ভাইকে বলোনি কেন এসব? কী যে বলেন! তিনি কি ধোয়া তুলসি পাতা? তিনিও ড্রিংক করেন। রাতে কাজ শেষ হয়ে গেলে অফিসে বসেই করেন। আমাকেও খেতে হয়েছে তার সঙ্গে। আদর করে জড়ানো গলায় বলেছেন, খাও, খাও। ভালো জিনিস। স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এনার্জি বাড়ায়। এত পরিশ্রম করার পর দরকার আছে এটার। সাহেবরা তো খারাপ জিনিস তৈরি করেনি। অল্প অল্প খাও, তাহলে বেসামাল হবে না। একটু সামলে চলতে হবে, হাজার হোক এটা পার্টি অফিস। বেসামাল হতে চাও তো আমার বাসায় এসো। তোমার ভাবি? আরে সে থাকলে তো! কেউ নেই, বাসা খালি। মারা গিয়েছে? না, মারা যাবে কেন? মেয়েরা অত তাড়াতাড়ি মরে না। এই ঝগড়া করে চলে গেল আরকি। বলল, রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে ঘর করা পোষাবে না তার। কয়েক বছর একসঙ্গে থাকার পর এই কথা বলা। এত দিন যখন সহ্য করতে পেরেছে, তখন বাকিটাও পারত। কোনো মানে হয় হঠাৎ করে এসব কথা বলার? যারা দেশের জন্য খাটছে দিন-রাত, তাদের কিছু খামখেয়ালি, নিয়ম ভেঙে চলা—এসব সহ্য করতে না পারলে চলবে কেন? শুনল না মেয়ে মানুষটা। চলে গেল। যাক গে। বেশ আছি। হাত-পা ঝাড়া। চাকর আছে, রাঁধুনি আছে বাসায়। খাওয়া-দাওয়ার অসুবিধা হচ্ছে না, ঘুমোবার সময় বেশ ঘুমোচ্ছি। হ্যাঁ, তোমার যখন খুশি যেতে পারো। ওদের বললেই তোমাকে খেতে দেবে। দোকানে দোকানে সব সময় খাওয়া ভালো না লাগারই কথা। সেই তো বিরিয়ানি, নয়তো পরোটা-গোশত। কত দিনের পুরোনো কে জানে। স্বাদ বদলের জন্য এসো আমার বাড়ি মাঝে মাঝে। যখন খুশি। আমি বলে রাখব। জমির চাচা বললেও আমি সঙ্গে সঙ্গে তার বাসায় যাইনি। আমার মনে বেশ সন্দেহ জমেছিল। আস্তে আস্তে লোকটার চেহারা খুলে যাচ্ছিল আমার সামনে।


জমির চাচা নিজেই একদিন নিয়ে গেলেন তার বাসায়। প্রায় জোর করেই ড্রিংক করালেন ড্রয়িংরুমে বসে। সেদিন বেশিই খাওয়া হয়ে গিয়েছিল, তারই চাপে। ড্রিংকের পর পোলাও-কোর্মা খাওয়া হলো। খুব ফুর্তি লাগছিল। অমন মজা করে খাইনি অনেক দিন। তিনি যখন অনেক রাতে বললেন, দেরি হয়ে গিয়েছে। এখন হোস্টেলে যাওয়া ঠিক হবে না। থেকে যাও এখানে।
তাঁকে বেশি করে বলতে হলো না। থেকে গেলাম প্রায় স্বেচ্ছায়। সেই শুরু। তারপর বেশ কয়েক দিন হয়েছে অমন, একসঙ্গে ড্রিংক করা, খাওয়া আর ঘুমানো। দলের ছেলেরা তো বোকা না, টের পেয়ে গিয়েছে। ঠাট্টা করেছে, মিসট্রেস বলে। গায়ে মাখিনি। এমন ভাব করেছি, যেন শুনতেই পাইনি। ওরা ঠাট্টা করা বন্ধ করেনি।


জমির চাচাকে কেন বলিনি ওদের কথা? এই জন্য বলিনি যে জমির চাচা ওদের কিছু বলবেন না। তাদের নিয়ে কাজ করতে হয় তাকে।
তিনি রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছেন, অনেক জায়গাজুড়ে মঞ্চ। রাস্তায়, ফুটপাতে মানুষের ভিড়। অল্প বয়সের ছেলেমেয়েই বেশি। স্লোগান উঠছে থেকে থেকে, কোলাহল বাড়ছে। তিনি সীমার দিকে তাকিয়ে বললেন, তুমি মঞ্চে যাবে না আজ? স্লোগান দিতে?
না। ছাত্রনেতারা পলিটিকস করছে আমার সঙ্গে। বলছে, তাদের খাদ্য হতে হবে। শুধু জমির চাচার একার খাদ্য হলে চলবে না। রাতের বেলা মঞ্চের আশপাশে তাদের সঙ্গেও শুতে হবে। তাহলেই হাতে মাইক্রোফোন দেবে, নচেৎ নয়।


শুনে তিনি অবিশ্বাসের চোখে তার দিকে তাকান। রাস্তার স্লোগান ক্রমেই জোরালো হয়। তিনি সীমা নামের মেয়েটিকে বলেন, মাইক্রোফোন ওরা কন্ট্রোল করে? ওরাই ঠিক করে কে কখন স্লোগান দেবে?
তা নয় তো কী? ওরাই তো মঞ্চের নেতা। ওদের কথা যারা মানবে না, তারা হাতে মাইক্রোফোন পাবে না। গলা যত সুন্দরই হোক। আমার মতো ভরাট গলা হলেও চান্স পাবে না। মেয়েটি হঠাৎ তার দিকে তাকিয়ে বলল, শুনবেন স্যার? একটা স্লোগান দেব? আমার ভরাট গলায়?


না, না। দরকার নেই। এমনিতেই বুঝতে পারছি তোমার গলা বেশ ভরাট। রেডিও, টিভি অ্যানাউন্সারদের মতো, নিউজ রিডারের মতো।
মেয়েটি খুব খুশি হয় শুনে। হাসিমুখে বলে, সত্যি বলছেন স্যার? টিভি অ্যানাউন্সার, নিউজ রিডারের মতো? বলতে বলতে মেয়েটির চোখ ভিজে এল। ধরা গলায় বলল, আমার মতো অধঃপতিত মেয়ের ভাগ্যে কি তা হবে কখনো? হতে পারত যদি খারাপ হয়ে না যেতাম। ভালো পথে চলতাম। ভালো লোকের সঙ্গে মিশতাম। কিন্তু তা কী করে সম্ভব? আমার মতো অবস্থার একটা মেয়ে ভালো পথে কী করে চলবে? ভালো মানুষের সঙ্গ সে কোথায় পাবে? হাজার চেষ্টা করলেও তা হবে না। পাবনা থেকে ঢাকা অনেক দূরের পথ। আমি তো জানি পথের বাধাগুলো কোথায় কোথায় দাঁড়িয়ে। না, অত বড় কিছুর কথা ভাবতে পারি না আমি এখন। ছোটখাটো একটা চাকরি পেলেই বর্তে যাব। যেকোনো কাজ, যা ভদ্রভাবে চলতে দেবে, সুন্দরভাবে থাকতে দেবে। আচ্ছা স্যার, আপনার টেলিভিশন চ্যানেলে লেখাটেখার কোনো কাজ নেই? আমি খুব ভালো বাংলা লিখি। কবি শামসুর রাহমানের ওপর লেখা আমার কয়েকটা প্রবন্ধ আছে। অনেকে প্রশংসা করেছিল। আরও কয়েকটা লিখে একটা বই বের করব ভেবেছিলাম। কিন্তু সময় হলো না। ইচ্ছেটা এখনো আছে।
জমির চাচাকে বলব? তিনি উড়িয়ে দেবেন কথাটা। বলবেন, কবি-টবিদের ওপরে বই লিখে কী হবে? তার চেয়ে আমাদের দলের ওপর লেখো। দলের নেতাদের ওপর লেখো। তারপর একটু থেমে বলেছেন, তোমার অসুবিধা কোথায়? এই সব কথা তোমার মাথায় ঢোকে কেন? মাসে তিন হাজার টাকা পাচ্ছ। সেই টাকায় কলেজের ফি, হোস্টেলের খরচ দিচ্ছ। এই বয়সে এর চেয়ে ভালো চাকরি আর কী হতে পারে? তাও আবার পার্টটাইম। পরীক্ষায় পাস করার পর বেশি বেতনে চাকরি পেয়ে যাবে, তখন তুমি শুধু শামসুর রাহমান কেন, সব কবিদের নিয়ে লিখবে। এখন তোমাকে আমার অফিসের কাজের জন্য বেশি দরকার। ছাত্রনেতারা হাসি-ঠাট্টা করে? তা একসঙ্গে করলে বন্ধুরা অমন করবেই, গায়ে না মাখালেই হলো অথবা হেসে উড়িয়ে দেবে। আর শোনো, আমাকে না বলে ছাত্রনেতাদের সম্পর্কে কিছুই বলতে যাবে না। ওরা রেগে গেলে সবকিছু করতে পারে। দল ভেঙে অন্য কোথাও যাওয়ারও চেষ্টা কোরো না। দলের ছেলেরা সেটা সহ্য করবে না। ওরা সাংঘাতিক কিছু করে ফেলবে। দলের ছেলেমেয়েদের দলে রাখা তাদের জন্য একটা প্রেসটিজের ব্যাপার। ইচ্ছে করলেই কাউকে চলে যেতে দেওয়া যায় না। ঢোকা সহজ, বেরোনো কঠিন। বুঝলে? মাথা ঠিক রেখে কাজ করো। সমস্যা হলেই আমার কাছে চলে আসবে, খোলাখুলি সব বলবে।
জমির সাহেব মঞ্চের ছেলেদের বলছেন না কেন তোমাকে মাইক্রোফোন দেওয়ার জন্য? তিনি মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করেন।


বলছেন না এই জন্য যে তিনি তাদের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে চান না। তা ছাড়া ব্যাপারটা নাটকের মতো। পেছন থেকে প্রম্পটার যা বলছে, তাই নিয়ে স্লোগান হচ্ছে, সে অনুযায়ী সবকিছু চলছে। বাইরে থেকে কিছু বোঝা যায় না। জমির চাচা মঞ্চের পেছন থেকে সামনে আসতে যাবেন কেন? তিনি এবং তার বন্ধুরা টাকা দিয়ে যাচ্ছেন, খাওয়ার প্যাকেট পাঠাচ্ছেন। মঞ্চ চালু থাকছে, মিছিল বের হচ্ছে। ব্যস, এতেই তারা সন্তুষ্ট। একটা মেয়ের জন্য তিনি কিংবা তার সহকর্মীরা ছাত্রনেতাদের খেপাতে যাবেন কেন? নিজের দুর্বলতা থাকলে এমনই হয়। না, জমির চাচাকে বলে কিছু হবে না। সে আমার জানা আছে। হাতে মাইক্রোফোন পাওয়ার একটাই উপায়। ছাত্রনেতাদের কথা শুনতে হবে। সোজা কথায়, তাদের খাদ্য হতে হবে। হ্যাঁ স্যার, আমার মতো মেয়েরা সবাই খাদ্য। তারা মেনে নিয়েছে, ইচ্ছায় এবং অনিচ্ছায়। কী করবে? বাবার এত টাকা নেই যে তার খরচে ঢাকায় থাকবে। চাচা নেই, মামা নেই যে সাহায্য করতে পারেন। একমাত্র জমির চাচারা আছেন। তারা আগ বাড়িয়ে সাহায্য করতে আসেন। বড় মিষ্টি তাদের ব্যবহার। প্রায় অপত্যস্নেহে তাঁরা সঙ্গে নিয়ে ঘোরেন।


মেয়েটি প্রসঙ্গ বদলায়। বলে, আপনাকে টেলিভিশনে দেখেছি, টকশোতে আপনার কথা শুনেছি। আপনাকে অন্য রকম মনে হয়েছে। মানে অন্য পুরুষদের মতো না। আমার ভুলও হতে পারে। কিন্তু সত্যিই আপনাকে দেখে আমার এমন মনে হয়েছে। তা স্যার, পারবেন আমার জন্য কিছু করতে? বড় কিছু না। মঞ্চের আড়ালেই থাকব, লেখালেখি কিছু থাকলে করে দেব। টেলিভিশনেও লেখার কাজ নিশ্চয়ই আছে?
এই বইটা থেকে পড়ব? কতটুকু? এক প্যারা? বেশ পড়ছি। বলে মেয়েটি পড়তে থাকে এক মনে। পড়া শেষ হলে সে তাকে বলে, ক্যামন হলো স্যার? স্লোগান দিয়ে দিয়ে গলাটা ভেঙে গিয়েছে। নরমাল হলে আর একটু ভালো হতো। তা লেখালেখির কাজের জন্য তো গলার স্বরের দরকার নেই। আমার লেখা প্রবন্ধগুলো আপনাকে দেব। কবি শামসুর রাহমানের ওপর লেখা প্রবন্ধ। আমার খুব প্রিয় কবি ছিলেন। ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতাটি পড়লেই আমার গায়ের রোমকূপ দাঁড়িয়ে যায়। আমি প্রবন্ধগুলো আপনার অফিসে গিয়ে দিয়ে আসব। আপনার কাছে পৌঁছাবে কি না কে জানে। কত রকমের সিকিউরিটি আপনাদের অফিসে। তবু আমি দিয়ে আসব।


তিনি পকেট থেকে মোবাইল বের করে চোখের সামনে নিয়ে একটা নম্বরে টিপ দিলেন। তারপর ওপাশে কণ্ঠস্বর শোনা যেতেই তিনি বললেন, একটা মেয়ে যাবে অফিসে। নাম সীমা। ওর একটা অডিশন নেবে। হ্যাঁ, সে একটা কিছু পড়ে যাবে, যা তোমরা তাকে দেবে। শোনার পর নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। তারপর আমাকে তোমাদের মত দেবে। হ্যাঁ, আমিও শুনব তার রেকর্ড করা অডিশন।
স্যার, আমি টেলিভিশনে অডিশন দেব? সত্যি বলছেন? না, না ঠাট্টা করবেন না আমার সঙ্গে। আমি এর মধ্যেই জীবনে অনেক কষ্ট পেয়েছি। আর বাড়াতে চাই নে কষ্টের বোঝা। স্যার, চাকরি না দেন, আমার সঙ্গে ঠাট্টা করবেন না। আমি মফস্বলের সামান্য একজন মেয়ে, তার ওপর আবার অধঃপতিত। পড়ে গেলে নাকি ওঠা কঠিন। আমি একটু দেখতে চাই, পড়ে গেলেও ওঠা যায় কি না, তার জন্য ছোট একটা সুযোগ দেন শুধু।
তিনি মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বললেন, তুমি খুব বেশি কথা বল।


শাহবাগ চত্বর লোকে লোকারণ্য। সব বয়সের মানুষ নর-নারীতে ভরে গিয়েছে সব রাস্তা, ফুটপাত। সবাই ব্যগ্র হয়ে তাকিয়ে আছে দক্ষিণের দিকে, যেখানে জাতীয় জাদুঘর, পাবলিক লাইব্রেরি আর তারপর আর্ট ইনস্টিটিউট। হকাররা ভিড়ের মধ্যে নানা ধরনের জিনিস বিক্রি করছে। খেলনা, খাবার জিনিস—সবই। লাল আর সাদা হাওয়াই মিঠাইয়ের পেজা তুলার মতো ফাঁপানো শরীর প্লাস্টিকের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে। বাবার কাঁধে চড়ে একটা শিশু হাওয়াই মিঠাই খাচ্ছে, কাঁধে চড়েই কেউ বাতাসে খেলনা নাড়ছে। বাঁশি বাজাচ্ছে এক হকার, গলায় ঝোলানো ঝোলায় বিক্রির বাঁশি। শুকনো মিষ্টি বিক্রি করছে ঠেলাওয়ালা। বাতাসে ভাজা-পোড়ার গন্ধ। শিশুপার্কের সামনে এক চিলতে জায়গায় ফকির আলমগীর তাঁর দল নিয়ে লালনসংগীত গাইছেন ফিউশন সুরে।


একটু পরে আর্ট ইনস্টিটিউট থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হলো। সঙ্গে সঙ্গে ভিড়ের মধ্যে ঢেউয়ের মতো একটা চঞ্চলতা আছড়ে পড়ল। পেপিয়ার-ম্যাশে তৈরি মস্ত বড় বাঘ, প্যাঁচা, ময়ূর মাথার ওপরে তুলে এগিয়ে আসছে শোভাযাত্রার ছেলেমেয়েরা। উত্তেজনায় ফেটে পড়ছে যেন, চঞ্চল হয়ে উঠেছে ভিড়ের মানুষ। গরমে ঘামছে সবাই, লাল হয়ে এসেছে মুখ। ধুলো উড়ছে, বাতাসে রোদের ঝাঁজ।


মেয়েটি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে বলছে, ‘নতুন বর্ষকে স্বাগত জানিয়ে এগিয়ে আসছে মঙ্গল শোভাযাত্রা। এতক্ষণ যারা অধীর প্রতীক্ষায় ছিল, হাজার হাজার সেই সব নর-নারী শিশু-কিশোরের প্রতীক্ষা শেষ হলো। গান শোনা যাচ্ছে, এসো হে বৈশাখ, এসো এসো।’ বলতে বলতে মেয়েটির স্বর ক্রমেই উঁচু হলো। এত কোলাহল, গানের চড়া সুর, তার ভেতরে মেয়েটির কণ্ঠস্বর স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। সে পরেছে লাল পেড়ে সাদা সুতির একটা শাড়ি। তার এক হাতে ছোট গাঁদা ফুলের মালা বালার মতো জড়িয়ে।

উন্মাদিনী কাল

উন্মাদিনী কাল - প্রথম আলো

একটা সিগারেট দে। সিগারেট দে কইলাম। লক্ষ্মী ভাই আমার!’ পরনের জামাটাকে কি কামিজ বলা যায়? হয়তো ছেলেদের শার্ট ছিল অথবা মেয়েদের কামিজ? ঠিক কি ছিল তা এত দিন পর কে বলবে। মূল রংটা কি অফ হোয়াইট টাইপের কিছু একটা ছিল? এখন সেই সাদার ওপর অনেকটা ময়লা কালচে ও থিকথিকে আভা ধারণ করে গোটা জামাটাকে একটা কোঁচকানো বিন্যাস দিয়েছে। না, হাঁটুর নিচে সালোয়ার বা সায়া টাইপের কিছু নেই। একটি গোটা জামাই শুধু পরনে। স্তন না অতি ভারী, না অতি শীর্ণ। চুলগুলো একটা আরেকটার ওপর জটা পাকিয়ে। স্নান করেনি কত বছর?
‘দিবি না সিগারেট? আমি কইলাম সব স্লোগান কইতে পারি! ক-তে কাদের মোল্লা, তুই রাজাকার/ তুই রাজাকার! ন-তে নিজামী, তুই রাজাকার/ তুই রাজাকার! জ্বালো-জ্বালো-আগুন জ্বালো! তোমার আমার ঠিকানা/ পদ্মা-মেঘনা-যমুনা...কি রে ভাইয়ারা, পারতাছি না? এইবার দে...এই পাগলিডারে একটা সিগারেট দে।’
জাদুঘরের সামনেই পুলিশ আর কালো পুলিশের (র‌্যাব) কাঁটার তার দেওয়া এই ঘেরের ভেতরেই এখন সবাই আসে। স্লোগান দেয়। শুরুতে তা ছিল বারডেম হাসপাতালের উল্টা দিকে। মাথায় ঘোমটা দেওয়া এক চাচির ছবি বড় করে টাঙানো। লম্বা একটা পতাকা ঝুলত বাতাসে আসমান বরাবর। আর লোক আর লোক। গাড়িতে করে মানুষ আসছে। আসছে টিভির লোকজন। কাঁধে তাঁদের বিশাল সব ক্যামেরা। টিএসসি থেকে পাবলিক লাইব্রেরি জাদুঘর হয়ে ওপারে ফুলের দোকান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আর এদিকে বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের মোড় পর্যন্ত শুধু লোক আর লোক। সকাল থেকেই থাকে। দুপুরের পর বিকেল থেকে আরও মানুষ। ক্যামেরাম্যান। লম্বা লম্বা ট্রলিতে উঠে ছবি তুলছেন সবাই। মুখে পতাকা আঁকা, মাথায় পতাকা বাঁধা ভাইয়েরা, আপারা। আর শুধু স্লোগান। শুধু স্লোগান। শাহবাগে সত্যি বলতে এমন আজব ব্যাপার সে কখনোই দেখেনি। দেখতে দেখতে কত কী হলো! আগে শাহবাগে তার সকালটা শুরু হতো ফুলের দোকানের সামনে ফুলের পাপড়ি ঝাড়ু দিয়ে। ভিক্ষা চেয়ে। সেখান থেকেই সে হেঁটে হেঁটে চলে যেত কখনো টিএসসি, দোয়েল চত্বর হয়ে হাইকোর্ট। রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। তা গত দুই মাস সে শাহবাগেই ঠাঁই নাড়া। কত ফুল, গান-বাজনা, মাইক হাতে আপাদের স্লোগান, মোমবাতিতে ম্যাচের ঘষায় ম্যাজিকের আলোতে সারা শহরে তারাবাতি জ্বলল। এই ভাই-আপাদের অনেকে একটা মাস রাস্তাতেই থাকল আর রাস্তাতেই ঘুমাল...ভ্যানগাড়ির মতো কী একটা নাকি ভাতরুমে (বাথরুমে) যায়। তারপর ধীরে ধীরে মানুষ কমতে থাকে। আবার মাঝেমধ্যে বাড়ে। তখন মনটা কেমন করে। গত একটা মাস খুব ভালো গেছে। মাইকে গানের সঙ্গে সে-ও গান গেয়েছে। মাঝরাতে গান। ভোররাতে গান। তারপর মাঝখানে কদিন লোক একদম কমে গেল। আজ আবার মানুষ আসছে। 
‘কি রে ভাইয়া, সিগারেট দিলি না?’
‘দিচ্ছি-দিচ্ছি!’ সদ্যই ধরানো একটা ৫৫৫ টান না দিয়েই সাদি বাড়িয়ে দেয় পাগলির দিকে। 
লম্বা, শ্যামলা আর এক মাথা ঝাঁকড়া চুলের সাদিকে দেখতে কঠোর পুরুষ মনে হলেও আদতে নরম। রক্ত-সংঘর্ষ-ভাঙচুরকে তার ভয়। গিটারে অব্যর্থ হাত। জর্জ হ্যারিসন হওয়ার স্বপ্নে বিয়ে করা হয়নি। বিজনেসম্যান বাবা সফল পুত্র-কন্যাদের ভেতর সাদিকেই ‘সিস্টেম লস’ হিসেবে মেনে নিয়েছেন। এদিকে লালচে ফরসা, প্রায়ই পাঞ্জাবি পরা, স্নিগ্ধ চেহারার অনুপমকে দেখলে মনে হয় জীবনেও গীতবিতান আর রজনীগন্ধা ছাড়া দুই হাতে কিছু ধরেনি। বাস্তবের অনুপম এক-এগারোর সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আর্মির হাতে ছাত্র পেটানোর প্রতিবাদে হাতে আধলা ইট নিয়ে আর্মি ট্রাকের পেছনে ছুটেছিল। এখন বিজ্ঞাপনী এজেন্সির কপিরাইটার। সঙ্গে মোস্তাফিজও ছিলেন। বেঁটে-খাটো, শীর্ণ মোস্তাফিজ মুঠোফোন কোম্পানিতে কাজ করলেও সুযোগ পেলেই ক্যামেরা হাতে দেশের সব বন-বাদাড়ে ছুটে বেড়ান।
সাদির হাত থেকে সিগারেট নিয়ে আনন্দে দুটো সুখ টান দেয় পাগলি। মাথার ওপর চাঁদ ঝকঝক করছে।
‘অই আপারা! আইজ ইমরান ভাই কই? ইমরান ভাই আসব না? লাকি আপা কুনখানে? আমি লাকি আপার মতো স্লোগান দিতে পারি। তোরা শোন্। শুইনা আমারে ১০টা টাকা দে।’ 

পাগলি সিগারেট হাতে এদিক-সেদিক কোথাও গেছিল! কাঁটাতারের এপারে ফুটপাতের ডিভাইডারের সামনে আবার এসে দাঁড়ায় সে, ওদের ছোট গ্রুপটার সামনে। হাসি হাসি মুখে গলা তুলে প্রচণ্ড জোরে চিৎকার করে, ‘জ্বালো জ্বালো-আগুন জ্বালো! গ-তে গোলাম আযম/ তুই রাজাকার, তুই রাজাকার! নিজামী গেলি কই? আইতাছি তর বাপেরা! সাকা গেলি কই? আইতাছি তর বাপেরা! সাঈদী তর কবর হবে/ পাকিস্তানের মাটিতে! জামাতের বিবির/ বাচ্চারা শিবির! দে-১০টা টাকা দে!’
শ্রাবস্তী ব্যাগ খোলে। বন্ধুদের হট্টগোলের আড়ালে এক কোনায় বসে ১০টা টাকা দেয় সে পাগলিকে। 
‘তোর মনটা খুব নরম রে আপু। তুই আর একদিন আমাকে টাকা দিছিলি না?’
হ্যাঁ, একেই টাকা দিয়েছিল বৈকি শ্রাবস্তী। গত পরশু বিকেলে। 
‘আইজ রাতের খাওয়া হবে রে আপু। কি কিনমু জানিস? একখান বনরুটি, একটা কলা আর এক কাপ চা।’ পাগলি এবার শ্রাবস্তীর সামনে হাঁটু গেড়ে বসে। 
‘তুই কী সুন্দর সাজছিস রে আপু!’
‘কী নাম তোমার?’
‘আমার নাম...’ পাগলি তার জটা আর উকুনভরা চুলে হাত চুলকায়। 
‘নাম একটা ছিল মনে কয়। অহন মনে নাই। আমি এই শাহবাগের পাগলি। শাহবাগেই থাকি। আমারে তোর মতো সাজায় দিবি আপু?’
শ্রাবস্তী অবাক হয়, ‘কি সাজবে তুমি?’
‘তোর মতো কাজল আর লিপস্টিক দিয়া দে আমারে। আছে না তোর ব্যাগে?’
‘না-নেই তো!’
‘তাইলে তোর চিরুনিটা দিবি? আমার মাথায় ময়লা নাই।’
‘আমার কাছে ত’ চিরুনিও নাই!’ মিথ্যা বলে শ্রাবস্তী। 
‘ওহ্...’ পাগলি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, ‘থাক। একদিনে বেশি চাইতে নাই। তুই ত’ ১০টা টাকা দিলিই। আসি রে আপু...আসসালামু আলাইকুম!’
শেষ মুহূর্তে হাসিমুখে কপালের কাছে সালামের ভঙ্গিতে হাত জড়ো করে পাগলি তার কাঁধে বেশ কিছু টুকরো কাগজভরা পলিথিনের ব্যাগটি নিয়ে শাহবাগ জাদুঘরের সামনে থেকে রাস্তার ওপারে ফুলের দোকানের পাশ হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যেতে থাকে। মুঠোফোনে বাসা থেকে মেসেজ আসছে। রাত প্রায় সাড়ে নয়টা। আলিয়ঁস ফ্রঁসেস থেকে রাত আটটায় পরীক্ষা শেষ করে এখানে চলে এসেছিল আজ। ২৫ মার্চের রাত বলে কথা! এখন রিকশা নিয়ে বাসায় যেতে সাড়ে নয়টা বাজবে। 
পাগলি বিদায় নিতে না-নিতে আলোচনা ততক্ষণে নানাদিকে বিসর্পিল মোড় নিয়েছে। ব্লগারেরা কি আসলেই নাস্তিক ছিল, সাঈদীকে চাঁদে দেখা নিয়ে দাঙ্গা, ধুমধাম মন্দির ভাঙা হচ্ছে প্রতিদিন, আওয়ামী লীগ-বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী বনাম হেফাজতে ইসলাম, রুশি বাম বনাম পিকিং বাম, পিকিং বামদের কার্যক্রম অতিবিপ্লবের ঝোঁকে বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে চলে যায় না তো, শুধুই যুদ্ধাপরাধের বিচার কি জাতীয়তাবাদী আবেগ নাকি তেল-গ্যাস, বিদ্যুৎ-বন্দরের দাবিও থাকা প্রয়োজন? শাহবাগ বসন্ত কী বিপ্লব না বিপ্লবের পূর্ব লক্ষণ? 
‘আচ্ছা-একটা ব্যাপার...’ ইতস্তত নরম গলায় শ্রাবস্তী বলে, ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার না হয় আমাদের করতেই হবে। নাহলে বাংলাদেশ পাপমুক্ত হবে না। আমার পিসি ফোন করেছিলেন। ওনাদের উপজেলায় আজও দুইটা মন্দির ভেঙেছে। তা-ও না হয় মানলাম। লাশ পড়ছে। মানলাম। কিন্তু বিচারের পরে...ধরো, এই পাগলি...ও কি খেতে পাবে?’
‘এটা তোর খুব রাজাকার মার্কা কথা হইল। এটা তো পিকিং বাম মার্কা কথা।’ মোস্তাফিজ খেপে উঠল। সাদির মুখ অকারণে লাল হলো। সাদি পিকিংপন্থী। সে কারণেই একই বন্ধু গ্রুপে থেকেও রুশপন্থী শ্রাবস্তীর সঙ্গে তার কথা নেই আজ কয়েক বছর। এদিকে জিনস-ট্রাউজার পরা, সিগারেট খাওয়া ‘টমবয়’ মোহসীনাও কিন্তু পিকিং বাম। বন্ধুরা একসময় মস্কাইট-রাবীন্দ্রিক-পাঞ্জাবি পরা অনুপমের সঙ্গে অপর মস্কাইট-রাবীন্দ্রিক-শাড়ি আর টিপের শ্রাবস্তীকে কল্পনা করে কলাভবনের সামনের গাছে অনুপম+শ্রাবস্তী এবং আপাত রুক্ষ ও পিকিং বাম সাদির সঙ্গে আপাত কঠিনা ও পিকিং বাম মোহসীনার নাম অর্থাৎ সাদি+মোহসীনা লিখে দুষ্টুমি করেছিল। অনুপমের সঙ্গে পরিচয়ের আগে মোহসীনার প্রেম ছিল তার কাজিনের সঙ্গে। সেখানেই বিয়ে। একটি বাচ্চা নিয়ে আপাতত ব্রেকআপ। ডিভোর্সের মামলা চলছে। ইতিমধ্যে অনুপমও বিয়ে করেছে যথারীতি। তবু আজ রাতে বউকে বাসায় রেখে ক্যাম্পাসের পুরোনো বান্ধবীকে বাসায় পৌঁছে দেবে না কি সে? মনের দুঃখে মোস্তাফিজ একাই অর্থাৎ বউকে ছাড়াই সর্বত্র ঘুরে বেড়ায় বাউল বাউল মুখে। সাদি জর্জ হ্যারিসন হওয়ার স্বপ্নে কোনো দিন চাকরি করবে না। তাই কোনো দিন কোনো মেয়েকেই সে বিয়ে করবে না। বিয়ে না করলেও প্রেম করেছে বেশ কিছু গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে। সব কয়টাই ব্রেকআপ। শ্রাবস্তীর সঙ্গে যত দিন তার কথা হতো, তত দিন রুশ আর পিকিং বাম পন্থার মতাদর্শিক ঝগড়া চলত। একপর্যায়ে তাদের কথা বন্ধ হলো। অথচ আজও ক্যাম্পাসে হঠাৎ দেখা হলে দুজনেরই বোধ করি অবস্থা হয় সেই এর্নেস্তো কার্দেনালের কবিতার পঙিক্তর মতো। ‘কেঁপে উঠি তোমার ক্ষণিক দৃষ্টিতেই!’ সাদি তার একটিও স্বীকৃত গার্লফ্রেন্ডকে অন্য ছেলেদের সঙ্গে কথা বলতে দেখলে রাগ করে না। অথচ বাক্যালাপ বন্ধ শ্রাবস্তী আজও কোন্ ছেলের সঙ্গে কথা বলে, সেটা সে পর্যবেক্ষণ করে শ্যেন দৃষ্টিতে। আবার সাদি যেমন জর্জ হ্যারিসন হওয়ার স্বপ্নে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয় না, শ্রাবস্তীও মহাশ্বেতা দেবী হওয়ার স্বপ্নে শেষ পর্যন্ত বিবাহ ইচ্ছুক কোনো যুবককে ভালোবাসে না। সচেতন অবচেতনে বেছে বেছে তাদের জন্যই সে দুঃখবিলাস করে যারা বেকার, ভবঘুরে বা অন্য কোনো সঙ্গিনীর সঙ্গে দায়বদ্ধ। দূর থেকে হালকা বিরহবোধ, উদাসীন রবীন্দ্রসংগীতের সুর আর মনের ছটফটে ইচ্ছা একদিন ঢাকার বাইরে গিয়ে বিশাল কোনো উপন্যাস তথা অশ্বডিম্ব সে প্রসব করবেই! কাজেই বিয়ে করা চলবে না। ওরে মধ্যবিত্ত সুবিধাবাদী, গত বছর তবে এক নির্জন মফস্বলে গিয়ে দিনে গড়ে ২০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ আর পানির অভাবে পালিয়ে এলি কেন? এখন বুড়ো বয়সে শৈশবের সংগীতচর্চার অভ্যাস পুনরুদ্ধার করাই শুধু আর তোমাকে দিয়ে হবে। 
‘আহ মোস্তাফিজ...ঝগড়া করিস না! শ্রাবস্তী, অর্থনৈতিক মুক্তি বা সমাজতন্ত্রের প্রশ্ন পরে। এখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারই বড় প্রশ্ন। আমরা অঙ্ক পরীক্ষার দিনে অঙ্ক আর বাংলা পরীক্ষার দিনে বাংলা পরীক্ষা দিই।’ অনুপম রেফারির রায় দেয়। 
লোকেন বোসের জার্নাল ২০১৩ (শ্রাবস্তীর ডায়েরি থেকে):
‘অমিতা সেনকে সুবল কী ভালোবাসে?
অমিতা নিজে কী তাকে?
অবসরমতো কথা ভাবা যাবে,
ঢের অবসর চাই;
দূর ব্রহ্মাণ্ডকে তিলে টেনে এনে
সমাহিত হওয়া চাই;’ 

আজ সকালে একটা মারাত্মক দুঃস্বপ্নে ঘুম ভেঙে গেল। তেল-গ্যাস, বিদ্যুৎ-বন্দরের দাবিতে একটি লংমার্চে আমিও ছুটছি। বন্দরে বন্দরে থামছি। নদীমাতৃক দক্ষিণ বাংলার সব বন্দর। মংলা-হুলারহাট-শিকারপুর। মংলায় গেছিলাম বটে ২০০৩-এ লংমার্চের সময়। শৈশবে হুলারহাট আর শিকারপুরে। স্টিমারের ভ্যাঁপো আর যে বন্দরেই থামছি সেখানেই অনেক মানুষ স্লোগান দিতে দিতে ছুটে আসছে। হাতে তালি দিয়ে তারা স্লোগান দিচ্ছে, ‘ফাঁসি- ফাঁসি-সবাই বলো ফাঁসি-আরও জোরে ফাঁসি!’ তারপর ঘুম ভাঙল রক্ত দেখতে দেখতে। আমার দুই হাতে রক্ত...আমার দুই ঊরুর ভেতরে রক্ত...সব রক্তে মাখামাখি...ঋতুচক্রের সময় প্রতিটি মেয়ের যেমন হয়... আমার মাথাটা ঘুরছিল। আর খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। আমি আমার মৃত মা-বাবা আর জীবিত ভাইবোনদের সেই মিছিলের ভেতর খুঁজতে চাইলাম। কিন্তু কাউকেই পেলাম না। তারপর টের পেলাম, আমার গায়ে একটি জামা আছে বটে কিন্তু আমার পা ও ঊরু অনাবৃত। আমার দুই পা থেকে রক্ত গড়িয়ে নামছে আর আমার দুই হাত কারা বেঁধে রেখেছে শিকলে। আমার গায়ে একটি ছেঁড়া জামা অবশ্য আছে। জামাটা...জামাটা খানিকটা কাল রাতের পাগলিটার মতো না? আমি কি আমিই? নাকি অনেক রাত অবধি ফেসবুকে বন্ধুদের শেয়ার করা একাত্তরের সেই যে বীরাঙ্গনা...পাগলির মতো দেখতে...দুই হাত ওর শিকলে বেঁধে রেখেছিল পাকিস্তানি বাহিনী আর রাজাকাররা.. ছেঁড়া, ময়লা জামার নিচ থেকে বের হয়ে আসছিল তার অনিন্দ্য কোমল নারীমাংসই বটে...আমি কি সেই বীরাঙ্গনা? দূর...তখন তো জন্মই হয়নি আমার...তবে আমি কী করে সে হব? আমাদের ধমনিতে শহীদের রক্ত...কানের কাছে কেউ ফিসফিস করে বলছিল এখন নতুন স্লোগান দিতে হবে...আমাদের ধমনিতে বীরাঙ্গনার রক্ত...না, আমি বীরাঙ্গনা না...আমি ধর্ষিতা হইনি...এই রক্ত কোনো দিন বৃথা যেতে পারে না! আমি আজও অক্ষত আছি...ভালো মেয়ে আছি...এই রক্ত কোনোদিন পরাভব মানে না...দ্যাখো, তোমরা...বিশ্বাস না হলে পরীক্ষা করো আমার শরীর! এই রক্ত কোনো দিন চোরাবালিতে হারায় না! আমার শরীরে তীব্র সার্চলাইট ফেলে তোমরা দেখতে পারো মেডিকেলি আমি আজও অক্ষত কি না...আমাদের ধমনিতে বীরাঙ্গনার রক্ত...না, আমি বীরাঙ্গনা নই...যে আমি অনার্য বাংলার ধানসিঁড়ি শ্যামলিমা...বেতফলের অরণ্যে লক্ষ্মীপ্যাঁচার ডানা ঝাপটানি, জলাঙ্গির কুয়াশাকীর্ণ নীলাভ সকাল...সেই আমার যোনি ও জরায়ুর ভেতর দিয়ে ছিঁড়ে-ফেড়ে মার্চপাস্ট করে যায়নি আর্যাবর্তের ৯০ হাজার পাঞ্জাবি-পাঠান-বালুচ সেনা...অথবা গেছে?...নাকি আমি সিটি করপোরেশনের সোডিয়াম লাইটের নিচে ঘুমিয়ে থাকা সেই পাগলিটা, যাকে যখন-তখন তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে পুলিশ, র‌্যাব কিংবা মাস্তান? সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সবুজ ঘাসের ওপর নিরুপায় শুয়ে আর সারা দেহে পুলিশের তীক্ষ্ন দাঁত-নখ বিঁধতে বিঁধতে শাহবাগ প্রজন্ম চত্বর থেকে ভেসে আসা গান শুনি বুঝি আমি: ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল রক্ত লাল রক্ত লাল?’ নাকি এটা বাঁশখালী? হুম্...আমি ঢাকার সুবিধাপ্রাপ্ত হিন্দু নারী। চাইলেই আমাকে ধর্ষণ করা যাবে না। তবে আমি যুদ্ধাপরাধের বিচার চাই...হত্যা ও ধর্ষণের বিচার চাই...অর্ডার-অর্ডার-নোট দ্য পয়েন্ট...একুশ শতকের মানবাধিকার ফাঁসির বিরোধী... আহ্...কী রক্ত! রক্তের ঘ্রাণ চারপাশে! আমার ঘুম ভেঙে গেল...জেগে দেখলাম সালোয়ার মাখামাখি রক্তে। বিছানার চাদরে রক্ত।

Saturday, April 13, 2013

নাদিয়াকে লাঞ্ছিত করেছে কারা? (ভিডিও)


[০৬ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামীর ডাকা লংমার্চে নিউজ কভার করতে যাওয়া নাদিয়াকে নির্যাতনের ঘটনা]
হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের হাতে নারী সাংবাদিক লাঞ্ছিত হওয়ার খবরটি অধিকাংশ মিডিয়ায় বেশ জোরেশোরে প্রচার হলেও ভিডিও ফুটেজ বলে ভিন্ন কথা। সম্প্রতি এমনই একটি ফুটেজ এসেছে নিউজ ইভেন্ট ২৪ ডটকম-এর কাছে।
ওই ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হেফাজতের কর্মীরা কিভাবে ওই রিপোর্টারকে নিরপাদ স্থানে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু অধিকাংশ মিডিয়া বিষয়টি চেপে গেছে। তারা হেফাজতে ইসলামকে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন নারীদের ওপর হামলাকারী ও নারীবিদ্বেষীর ভূমিকায়।

নবীজী যেভাবে বলেছেন, ঠিক সেভাবেই দেশ চলবে - শেখ হাসিনা।


নবীজী যেভাবে বলেছেন, ঠিক সেভাবেই দেশ চলবে | রাজনীতি | Rtnn.net

চাঁদাবাজিতে ছাত্রলীগের কোন্দল, বৈশাখী কনসার্ট বাতিল