উদ্ধারকাজে বিদেশী সহায়তা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ : টেলিগ্রাফ
সাভারে [২৪ এপ্রিল ২০১৩] ভবনধসের পর আটকা পড়া লোকদের উদ্ধারের জন্য ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশ সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিল। এসব প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে আরো সহজে উদ্ধারকাজ চালানো যেত এবং অনেক লোকের জীবন বাঁচানো যেত। কিন্তু এতে বাংলাদেশের জাতীয় অহংকার ক্ষুন্ন হতে পারে- এমনটা ভেবে পররাষ্ট্র এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। রোববার ব্রিটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা ডেইলি টেলিগ্রাফে এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
নয়া দিল্লি থেকে ডিন নেলসন ও ঢাকা থেকে ডেভিড বার্গম্যানের লেখা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার রানা প্লাজার বিশাল ধ্বংস্তূপের মধ্যে চাপা পড়ে অন্তত ৩৭০ জন নিহত হয়। জীবিতদের বাঁচানোর জন্য অপ্রশিক্ষিত স্থানীয় উদ্ধারকারীরা অপর্যাপ্ত সরঞ্জাম নিয়ে কাজে নামে।
পত্রিকাটিতে কূটনীতিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, কয়েকটি দেশ অভিজ্ঞ উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তারা তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে আরো বেশি জীবন বাঁচাতে পারত। কিন্তু গত সপ্তাহে ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়।
ডেইলি টেলিগ্রাফ যেসব নথিপত্র দেখেছে, তা থেকে দেখা যায়, জাতীয় অহংকার ুণœ হতে পারে- এই আশঙ্কায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাহায্য প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। এমনকি জাতীয় স্পর্শকাতর বিষয়টিতে ‘মুখ রক্ষার’ জন্য সাহায্যের বিষয়টি নিয়ে হইচই না হওয়ার কথা বলেও বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের তাতে রাজি করানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি।
ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগের এক মুখপাত্র ‘বিশেষায়িত কারিগরি পরামর্শ’ প্রদানের প্রস্তাব দেয়ার কথা নিশ্চিত করে বলেছেন, সেটি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব সি কিউ কে মুশতাক আহমেদ বলেছেন, তিনি শুনেছেন যে, তার মন্ত্রণালয় উদ্ধারকাজে বিদেশি সহায়তার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে। তবে তিনি সরাসরি এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি, তিনি বলেছেন এর প্রয়োজন নেই।’
দুর্ঘটনার পরপরই জাতিসঙ্ঘ কর্মকর্তারা যখন বুঝতে পারলেন, বিপুলসংখ্যক লোক ধ্বংস্তূপের মধ্যে চাপা পড়ে আছে, তখন বাংলাদেশ নিজের সামর্থ্যে উদ্ধারকাজ করতে পারবে কি না তা নিয়ে পশ্চিমা কূটনীতিকদের সাথে শলাপরামর্শ করেন। তারা একমত হন, বাংলাদেশ এই কাজ করতে পারবে না। তারা তখন ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশকে বিষয়টি অবগত করে জানতে চান, তারা উদ্ধাকারী ও ভারী সরঞ্জাম পাঠিয়ে সহায়তা করতে পারবে কি না।
এক কর্মকর্তা বলেন, ‘জাতিসঙ্ঘ ব্রিটেনসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে সহায়তার উপর জোর দেয়। কিন্তু প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হয়।’
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, বিদেশি সাহায্য না নিয়ে সাভারের উদ্ধার কার্যক্রম স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর নির্ভর করা হয়। এসব উদ্ধাকারীদের সুরক্ষাদায়ক পোশাক ছিল না, এমনকি অনেকে প্লাস্টিকের স্যান্ডেল পরেও কাজে নেমেছিল। ডেইলি টেলিগ্রাফে শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চিকিৎসকেরা স্বেচ্ছাসেবক এক গার্মেন্ট শ্রমিককে এক নারীর হাত কেটে তাকে উদ্ধারের নির্দেশনা দিচ্ছেন। চাপা পড়া অনেক শ্রমিক দিনের বেলার ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় বেঁচে ছিলেন নিজের প্রশ্রাব পান করে।
ধ্বংস্তূপের নিচে চাপা পড়া লোকদের স্বজনরাও উদ্ধারকাজ বিলম্বিত হওয়ার জন্য সরকারের সমালোচনা করেছে। কর্মকর্তারা গত সপ্তাহেই কংক্রিট সরানোর কাজে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার পক্ষপাতী ছিলেন এই যুক্তিতে যে, ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় কারো বেঁচে থাকার কথা নয়। কিন্তু ধ্বংস্তূপের ভেতর থেকে অনেক লোককে জীবিত উদ্ধার এবং অনেকে কান্নার শব্দ শোনা যাওয়ায় ওই পরিকল্পনা বিলম্বিত হয়।
নয়া দিল্লি থেকে ডিন নেলসন ও ঢাকা থেকে ডেভিড বার্গম্যানের লেখা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার রানা প্লাজার বিশাল ধ্বংস্তূপের মধ্যে চাপা পড়ে অন্তত ৩৭০ জন নিহত হয়। জীবিতদের বাঁচানোর জন্য অপ্রশিক্ষিত স্থানীয় উদ্ধারকারীরা অপর্যাপ্ত সরঞ্জাম নিয়ে কাজে নামে।
পত্রিকাটিতে কূটনীতিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, কয়েকটি দেশ অভিজ্ঞ উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তারা তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে আরো বেশি জীবন বাঁচাতে পারত। কিন্তু গত সপ্তাহে ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়।
ডেইলি টেলিগ্রাফ যেসব নথিপত্র দেখেছে, তা থেকে দেখা যায়, জাতীয় অহংকার ুণœ হতে পারে- এই আশঙ্কায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাহায্য প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। এমনকি জাতীয় স্পর্শকাতর বিষয়টিতে ‘মুখ রক্ষার’ জন্য সাহায্যের বিষয়টি নিয়ে হইচই না হওয়ার কথা বলেও বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের তাতে রাজি করানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি।
ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগের এক মুখপাত্র ‘বিশেষায়িত কারিগরি পরামর্শ’ প্রদানের প্রস্তাব দেয়ার কথা নিশ্চিত করে বলেছেন, সেটি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব সি কিউ কে মুশতাক আহমেদ বলেছেন, তিনি শুনেছেন যে, তার মন্ত্রণালয় উদ্ধারকাজে বিদেশি সহায়তার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে। তবে তিনি সরাসরি এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি, তিনি বলেছেন এর প্রয়োজন নেই।’
দুর্ঘটনার পরপরই জাতিসঙ্ঘ কর্মকর্তারা যখন বুঝতে পারলেন, বিপুলসংখ্যক লোক ধ্বংস্তূপের মধ্যে চাপা পড়ে আছে, তখন বাংলাদেশ নিজের সামর্থ্যে উদ্ধারকাজ করতে পারবে কি না তা নিয়ে পশ্চিমা কূটনীতিকদের সাথে শলাপরামর্শ করেন। তারা একমত হন, বাংলাদেশ এই কাজ করতে পারবে না। তারা তখন ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশকে বিষয়টি অবগত করে জানতে চান, তারা উদ্ধাকারী ও ভারী সরঞ্জাম পাঠিয়ে সহায়তা করতে পারবে কি না।
এক কর্মকর্তা বলেন, ‘জাতিসঙ্ঘ ব্রিটেনসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে সহায়তার উপর জোর দেয়। কিন্তু প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হয়।’
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, বিদেশি সাহায্য না নিয়ে সাভারের উদ্ধার কার্যক্রম স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর নির্ভর করা হয়। এসব উদ্ধাকারীদের সুরক্ষাদায়ক পোশাক ছিল না, এমনকি অনেকে প্লাস্টিকের স্যান্ডেল পরেও কাজে নেমেছিল। ডেইলি টেলিগ্রাফে শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চিকিৎসকেরা স্বেচ্ছাসেবক এক গার্মেন্ট শ্রমিককে এক নারীর হাত কেটে তাকে উদ্ধারের নির্দেশনা দিচ্ছেন। চাপা পড়া অনেক শ্রমিক দিনের বেলার ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় বেঁচে ছিলেন নিজের প্রশ্রাব পান করে।
ধ্বংস্তূপের নিচে চাপা পড়া লোকদের স্বজনরাও উদ্ধারকাজ বিলম্বিত হওয়ার জন্য সরকারের সমালোচনা করেছে। কর্মকর্তারা গত সপ্তাহেই কংক্রিট সরানোর কাজে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার পক্ষপাতী ছিলেন এই যুক্তিতে যে, ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় কারো বেঁচে থাকার কথা নয়। কিন্তু ধ্বংস্তূপের ভেতর থেকে অনেক লোককে জীবিত উদ্ধার এবং অনেকে কান্নার শব্দ শোনা যাওয়ায় ওই পরিকল্পনা বিলম্বিত হয়।
No comments:
Post a Comment