Wednesday, May 22, 2013

ক্রেতা-বিক্রেতার সম্পর্ক এবং তাদের অধিকার

হযরত আবু খালিদ হিযাম (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্রেতা ও বিক্রেতা একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন না হওযা পর্যন্ত তাদের কেনাবেচা বাতিল করে দেয়ার অধিকার রাখে। তারা যদি উভয়ে সত্য পথে থাকে তাহলে তাদের কেনাবেচা বরকতপূর্ণ হয়। আর যদি তারা মিথ্যা (বা অসাধু) পথে থাকে, তাহলে তা লেনদেনের বরকত নষ্ট করে দেয়া হয়। (বুখারী ও মুসলিম) [হাদীস নং ৫৯ - রিয়াদুস সালেহীন পৃষ্ঠা-৭২]

Tuesday, May 21, 2013

কানাডার রাষ্ট্রীয় টিভির প্রতিবেদন ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতি

প্রিয় মাতৃভূমি নিয়ে আজ সবাই উদ্বিগ্ন। প্রিয় মাতৃভূমির ভবিষ্যত্ রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেবে সে হিসাব-নিকাশ করছেন সবাই। আগামী নির্বাচন কি আদৌ সব দলের অংশগ্রহণে হবে? এ প্রশ্নটি সবার মনে উঁকি দেয়। নাকি আবার একতরফা নির্বাচনে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থেকে যাবে, সেটা নিয়ে সংশয় রয়েছে সবার মধ্যেই। আর এটা একেবারেই স্বাভাবিক। সরকার এই মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসেও বিরোধী দলের ওপর কঠোর নিপীড়ন-নির্যাতন চালাচ্ছে। সর্বশেষ সবচেয়ে নিরীহ কর্মসূচি মানববন্ধনও নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এখন শুধু বাকি রইল প্রধান বিরোধী দল বিএনপির অফিসে তালা দেয়া। জামায়াতে ইসালামীর অফিসে আরও দুই বছর আগেই তালা দেয়া হয়েছে। বিএনপির অফিসে তালা দিতে পারলেই হলো। সরকার চাইলে যে কোনো সময় দিতে পারবে। এটা প্রতিরোধ করার মত ক্ষমতাও এখন আর বিরোধী দলের নেই।

বিরোধী দলের অফিসে তালা দিলে সরকার বিরোধী কথা বলার আর কোনো জায়গা থাকবে না। সবাই নীরবে ঘরে বসে বসে শুধু ভাববেন। প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতারা একরকম ঘরে বসেই গেছেন। জনসভা ছাড়া আর গুলশানে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয় ছাড়া রাজপথে নেতাদের তেমন দেখা যায় না। হরতাল ডাকলে কেউ ঘর থেকে বের হন না। নেতারা বের না হলে কর্মীরা তো আর বের হওয়ার কথা নয়। কর্মীরা যখন দেখে নেতা মাঠে নেই তখন হতাশ হন। হতাশার আগুন জ্বলে কর্মীদের মনে। কর্মীদের মনে তখন প্রশ্ন জাগে, নেতা এমপি হবেন, মন্ত্রী হবেন তিনিই যখন রাজপথে নেই আমরা কেন থাকব! শুধু তাই নয়, কোনো কোনো জেলা ও উপজেলা সভাপতি রয়েছেন যারা হরতাল-অবরোধে কর্মীদের সতর্ক করে দেন রাস্তায় যাতে না নামেন। ওই উপজেলা ও জেলা সভাপতির অধীনস্থ নেতা-কর্মীদের বলে দেয়া হয় এখানে রাস্তায় মিটিং-মিছিল করলে সরকারের পতন হবে না। সুতরাং এখানে কেউ রাস্তায় নামার দরকার নেই। 

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকারে যেমন কঠোর, রাজনীতিতেও সরব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে জেলার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে প্রতিদিনই বৈঠক করছেন। এসব বৈঠকে বিরোধী দলের আন্দোলন, ৪ মে ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশ থেকে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার আলটিমেটামকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দিচ্ছেন। বিরোধীদলীয় নেতা সেদিন মতিঝিলের জনসভা থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নিতে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। এই ৪৮ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে আরও অনেক আগেই। এর মধ্যে হরতাল ডেকেও আবার প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে আর কোনো কর্মসূচি নেই। এজন্যই হয়তো ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটামকে খোঁচা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখছেন। বিরোধী দলের কোনো পর্যায় থেকে প্রধানমন্ত্রীর এসব খোঁচার রাজনৈতিক জবাব দেয়া হচ্ছে না। বিরোধী দলের চরিত্রেও এটা নেই। বিরোধী দলের সব কথাই বলতে হয় বেগম খালেদা জিয়াকে। আওয়ামী লীগের সুবিধা হচ্ছে শেখ হাসিনা যেই বক্তব্য দেন, দলের সব পর্যায় থেকে তার প্রতিধ্বনী করা হয়। কিন্তু বিরোধী দলের সেই রেওয়াজ নেই। বিরোধী দলের প্রত্যেক নেতাই যেন নিজস্ব রাজনীতি করেন। বক্তব্য দেন নিজের মতো করে। 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখনও কথায় কথায় বিরোধীদলীয় নেতার সন্তানদের কটাক্ষ করেন। বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক কার্যালয় হাওয়া ভবনকে আক্রমণ করে কথা বলেন। কিন্তু সরকারের প্রায় সাড়ে চার বছরে হাওয়া ভবনের কোনো দুর্নীতি কিন্তু প্রমাণ করতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লগি-বৈঠার আন্দোলনের ফসল মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনের জরুরি অবস্থার সরকারও হাওয়া ভবনকে আক্রমণ করেছিল। কিন্তু এতসব আক্রমণের পরও কার্যকর কোনো রেজাল্ট জাতি এখনও দেখতে পায়নি। জাতির সামনে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি এই হচ্ছে হাওয়া ভবনের দুর্নীতি। আঙুল দিয়ে দেখানোর মতো কোনো নজির নেই হাওয়া ভবনের বিরুদ্ধে। তারপরও শেখ হাসিনা এখনও সুযোগ পেলেই হাওয়া ভবন এবং বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার সন্তানদের আক্রমণ করে বক্তব্য দেন। আর এই বক্তব্যের সানাই বাজান আওয়ামী লীগের সব স্তরের নেতাকর্মী। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকে নাকচ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদাহরণ টানেন মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনের জরুরি অবস্থার সরকারের। বলার চেষ্টা করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে নিয়েছিলেন। তার দুই সন্তানকে পাঠিয়েছেন নির্বাসনে। উত্তম-মাধ্যম দিয়ে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বলা হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্দোলনের ফসল ছিল মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনের সরকার। কিন্তু তাকেই জরুরি অবস্থার সরকার রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক ব্যক্তি হিসেবে প্রেসনোট জারি করা হয়েছিল। জরুরি অবস্থার জারির পর শেখ হাসিনা নিজে গর্ব করে বলেছিলেন, এটা তার আন্দোলনের ফসল। রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক ব্যক্তি হিসেবে প্রেসনোট জারি করা হলেও শেখ হাসিনার সঙ্গেই তারা আঁতাত করে ক্ষমতা থেকে বিদায় নেন। এই সরকারের সঙ্গে আঁতাতের মাধ্যমেই তিনি ক্ষমতায় এসেছেন। আরও বলে থাকেন ৮ জনকে ডিঙ্গিয়ে মইনউদ্দিনকে সেনাপ্রধান করেছিলেন খালেদা জিয়া। ফখরুদ্দীনকে বিশ্বব্যাংকে থেকে এনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বানিয়েছিলেন। তবে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করে শেখ হাসিনার সঙ্গে আঁতাত করেছিলেন সেটা প্রধানমন্ত্রী বলেন না।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের দুর্নীতির বিষয় ধরা পড়েছে কানাডা সরকারের হাতে। এই দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বৃহত্ প্রকল্প পদ্মা সেতুর জন্য বরাদ্দ করা ঋণ বাতিল করেছে। এতে পদ্মা সেতু আর হচ্ছে না। পদ্মা সেতুর দুর্নীতি নিয়ে কানাডার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাত্কার নেয়া হয়। যদিও এই সাক্ষাত্কারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পরিবারের দুর্নীতির বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং অস্বীকার করেছেন। তবে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানা থেকে শুরু করে বর্তমান সরকারের সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমানসহ অন্যরা কীভাবে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। সৈয়দ আবুল হোসেনকে প্রধানমন্ত্রীর অলিখিত ক্যাশিয়ার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে কানাডার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে। 
এখানে প্রশ্ন রাখতে চাই, হাওয়া ভবনের বিরুদ্ধে কী এরকম কোনো দুর্নীতির একটি প্রমাণও রয়েছে? বা সিকি পরিমাণ দুর্নীতির কোনো প্রমাণ গত সাড়ে ৬ বছরে জরুরি অবস্থার সরকার এবং বর্তমান সরকার মিলে বের করতে পেরেছে? তারপরও হাওয়া ভবনের বিরুদ্ধে এখনও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আক্রমণাত্মক বক্তব্য রাখেন। আওয়ামী লীগের নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের বিরুদ্ধে কানাডার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে দুর্নীতির প্রমাণ হাজির করার পরও কিন্তু সেরকম কোনো প্রচারণা নেই। পদ্মা সেতুর এই দুর্নীতির মতো যদি হাওয়া ভবনের বিরুদ্ধে সামান্য পরিমাণ প্রমাণ থাকত তাহলে কী পরিমাণ আওয়াজ উঠত আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে! তখন হয়তো বিএনপির পক্ষে আর একদিনও ক্ষমতায় থাকা সম্ভব হতো না। আওয়ামী লগি- বৈঠার তাণ্ডবে এবং আওয়ামী মিডিয়াগুলোর প্রচারণায় একদিনও ক্ষমতায় থাকা সম্ভব হতো না বিএনপির। দুর্নীতির প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও হাওয়া ভবনকে দুর্নীতির খুঁটি হিসেবে জাতির সামনে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে আওয়ামী লীগ। এটা সম্ভব হয়েছে কেবল হিটলারের প্রচারমন্ত্রী গোয়েবলসের কায়দায় প্রচারণার মাধ্যমে। কিন্তু আওয়ামী লীগ-বাম জোটের এ সরকার ও প্রধানমন্ত্রী পরিবারের এতবড় দুর্নীতির পরও তারা বড় গলায় কথা বলছেন। আওয়ামী মিডিয়াগুলো এসব বিষয়ে নীরব। 
বিএনপির অফিস থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব থেকে শুরু করে ১৫৮ জনকে এক সঙ্গে ধরে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। হেফাজতে ইসলামের অবস্থান কর্মসূচিতে কত লোক নিহত হয়েছেন এবং কত লোক আহত হয়েছেন সেটা নিয়ে গোজবের শেষ নেই। শুধু ফেবু্রয়ারি মাসে ১৭৮ জনকে পুলিশ রাজপথে গুলি করে হত্যা করেছে। পুলিশের রিমান্ডে নির্যাতনের রেকর্ড অতিক্রম হয়েছে আরও বহু আগে। গুম করা হয়েছে ইলিয়াস আলীর মতো রাজনৈতিক নেতাসহ আরও অনেক রাজনীতিককে। ক্ষমতায় আসার পরপরই পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ৫৭ জন সেনা অফিসার। এত রক্তের দাগ এই সরকারের হাতে, বিশ্ব রেকর্ড করা দুর্নীতির অভিযোগ এই সরকারের বিরুদ্ধে। তার পরও ক্ষমতার শেষ বছরে এসে গোটা জাতিকে একেবারে জিম্মি করে ফেলেছে। সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই গ্রেফতার, রিমান্ডে নির্যাতন। জামিন পেলেও জেল গেট থেকে আবারও গ্রেফতার। এই নিবন্ধ লিখতে বসার আগে পত্রিকাগুলোর ওয়েবসাইট সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে ৫৩ জনকে জেল গেট থেকে ধরে নিয়ে গেছে সাদা পোশাকধারী পুলিশ। আইনকানুনের কোনো বালাই নেই। ধরে নিয়ে যেতে পারলেই হলো। আদালতে হাজির করলেই রিমান্ড পাওয়া যায়। এত সবের লক্ষ্য একটাই—যে কোনো মূল্যে ক্ষমতা ধরে রাখতে চায় সরকার। যে কোনো ছুতা-নাতায় জরুরি অবস্থা জারি করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার গুজবও বাতাসে ভাসছে। এর উদাহরণ রয়েছে নিকট অতীতে। মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনের জরুরি অবস্থার সরকার কোনো সাংবিধানিক সরকার ছিল না। তারা গায়ের জোরে দুই বছর ক্ষমতায় ছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকার যদি আরও কয়েক বছর জরুরি অবস্থার মধ্যে ক্ষমতায় থেকে যায় অসুবিধা কোথায়! এখন যেভাবে রাজপথে কর্মসূচি নিষিদ্ধ করেছে, ভবিষ্যতেও এরকম নিষিদ্ধ থাকবে। এখন যে রকম করে বিরোধী দলের নেতারা রাস্তায় বের হচ্ছেন না, তখনও বের হবেন না। বর্তমান লক্ষণে বোঝা যায় ভবিষ্যতে আরও নির্বিঘ্নে ক্ষমতার দাপট দেখাতে পারবে তারা।
সরকারের অনেক দুর্নীতির তথ্য ফাঁস করে দেয়ায় তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে দৈনিক আমার দেশ-এর ছাপাখানায়। মতিঝিলে হেফাজতে ইসলামের অবস্থানে রাতের আঁধারে ঘুমন্ত এবং নামাজ-জিকিররত ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিরুদ্ধে অভিযানের গণহত্যার চিত্র ধারণ করায় বন্ধ করা হয়েছে দিগন্ত টেলিভিশন ও ইসলামিক টেলিভিশন চ্যানেল। সরকারের দুর্নীতি এবং হত্যাযজ্ঞ নিয়ে নীরব আওয়ামী মিডিয়াগুলো। নীরব কথায় কথায় যেই হাইকোর্টে মানুষদের তলব করে অপমান করা হতো সেই উচ্চ আদালত। সবাই যেন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী-বাম জোটের তল্পিবাহক হয়ে গেছেন। 
গত কয়েক বছর থেকে সুপ্রিমকোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে সরকারবিরোধী আইনজীবী প্যানেল বিজয়ী হচ্ছেন। বার কাউন্সিলেও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন সরকারবিরোধী আইনজীবী প্যানেল। তাতে কী কোনো লাভ আছে? আদালতের অনিয়ম ও সরকারের ভাষায় কথা বলার বিরুদ্ধে কি কার্যকর কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পেরেছেন তারা! নামের সঙ্গে পদবী ব্যবহার করছেন। বিজয়ের সাফল্য এতটুকুই। শুধু তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলা যায়। আমরা সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনে ও বার কাউন্সিলে বিজয়ী হয়েছি। যারা বিজয়ী হন তারা নামের সঙ্গে পদবী ব্যবহার করেন। নিজের বায়োডাটায় পদবী যোগ হয়। অথচ চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তারা উচ্চ আদালতে আন্দোলনের নামে কি-না করেছেন। প্রধান বিচারপতির এজলাস থেকে শুরু করে ভাংচুর করা হয়েছে আদালত ভবন। শেখ হাসিনার দুর্নীতির মামলা শুনানি করতে গেলে আদালতে জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে হট্টগোল করা হয়েছে। এখন খুনের মামলার প্রধান আসামিকে বিচারপতি করা হয়, বিদেশে টাকা পাচারের জন্য অভিযোগ ওঠার পরও ৫০ জনকে ডিঙ্গিয়ে আপিল বিভাগে নিয়োগ দেয়া হয়। তারপরও কার্যকর কোনো প্রতিরোধ দেখা যাচ্ছে না। এখানেই আওয়ামী লীগ-বিএনপির পার্থক্য।
পদ্মা সেতুর দুর্নীতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ কানাডার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারের পর দুদকের দুজনকে কানাডায় পাঠানো হয়েছে। আমার এ লেখা প্রকাশের সময় তারা হয়তোবা কানাডায় থাকবেন। যাদের কানাডায় পাঠানো হয়েছে তারা দুজনই হলেন কট্টর আওয়ামী লীগার। এদের একজন হলেন অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। আরেকজন হলেন দুদকের আওয়ামী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। আনিসুল হক কখনও কখনও শেখ হাসিনার চেয়েও বড় আওয়ামী লীগার হিসেবে ভূমিকা রাখেন সুপ্রিমকোর্টে। দুদকের যেই কর্মকর্তা তার সঙ্গে কানাডায় গেছেন তিনিও আওয়ামী লীগার হিসেবে পরিচিত। তাদের দ্বারা কি কখনও সম্ভব হবে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের দুর্নীতির বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা। প্রধানমন্ত্রীর পরিবারকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে বাঁচানো যায় সেটাই বরং দুদকের কৌশল! তাদের বিপোর্টের ভিত্তিতে হয়তো এমন একটি প্রতিবেদন দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে প্রকাশ করা হবে, যেখানে বলা হবে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের কেউ জড়িত নন। যেভাবে প্রথমে আবুল হোসেন সম্পর্কে বলা হয়েছিল দুর্নীতির অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। 
কানাডার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে গত মঙ্গলবার প্রচারিত পদ্মা সেতু বিষয়ক দুর্নীতির অভিযোগের একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। উচ্চপর্যায়ের কোনো প্রফেশনাল ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টি দিয়ে এই তদন্ত হতে পারে। তথাকথিত নিরপেক্ষ ব্যক্তি নয়, প্রফেশনাল এবং বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত যারা করবেন তাদের মাধ্যমে এই তদন্ত করলেই কেবল জাতির কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। [সূত্র]

Sunday, May 19, 2013

4 Things You’ll Feel Right Before a Heart Attack

When your body tries to tell you something, how well do you listen?

With many health issues, your body sends out signals that something has gone awry. Of course, listening to your body when it complains that you just ate too much spicy food or you have a minor cold coming on may not be of life-shattering importance. 

However, when it comes to your heart, listening to your body is crucial — because ignoring or misinterpreting these bodily signals can be deadly.

In fact, researchers at Duke University Medical Center have recently determined that unrecognized myocardial infarctions (or “silent” heart attacks, in layman’s terms) are much more common than physicians had previously suspected. And unfortunately, they note these silent heart attacks carry a very high risk of death.

Studies indicate that about 200,000 Americans suffer a heart attack each year without even realizing it. These unrecognized heart attacks account for about one-fourth of all heart attacks, making this a serious public health issue.

Fortunately, according to renowned cardiologist Dr. Chauncey Crandall, you can easily train yourself to listen to your own body’s signals when it comes to the state of your heart health. 

Dr. Crandall recently collaborated with Newsmax Health to make available a special video presentation: 4 Things You’ll Feel Right Before a Heart Attack. In this no-cost video, you’ll see four major ways your body tries to warn you — before it’s too late to intervene and survive the damage.

Because, while they are called “silent” heart attacks, your body will warn you of these impending attacks days, weeks, even months before the actual cardiac events. However, symptoms may be mild, vague, or even painless — and many people don’t even realize they’re heart-related. 

In particular, four things you could feel are the most sinister signs of a silent heart attack. Just don’t expect the stereotypical “Hollywood” heart attack, where you see an actor clutching at the left side of his chest in severe pain. This is actually less common.

When it comes to surviving a heart attack, statistics show a clear link between delay in treatment and disability or death. That’s why knowing what to look for in terms of symptoms is critical, especially when they’re the kind that most people don’t think to associate with a heart attack — like the four things in this complimentary video presentation:4 Things You’ll Feel Right Before a Heart Attack. The video also discusses simple strategies to prevent and reverse general heart disease and high cholesterol.

Dr. Crandall, chief of the cardiac transplant program at the esteemed Palm Beach Cardiovascular Clinic in Florida, practices on the front lines of interventional, vascular, and transplant cardiology. Decades of experience have afforded him the chance to detect little-known warning signs and symptoms like the ones addressed in the video.

http://w3.newsmax.com/newsletters/crandall/video_4things.cfm?promo_code=10E2E-1


Read Latest Breaking News from Newsmax.com http://www.newsmax.com/MKTNews/things-feel-before-heart-attack/2012/10/15/id/464302?PROMO_CODE=10E2E-1#ixzz2Tj4GSk7s
Urgent: Should Obamacare Be Repealed? Vote Here Now!

Tuesday, May 14, 2013

Bringing it all together for Google Apps customers: 30GB shared between Drive and Gmail

Life gets a bit easier when your Google Apps products work well together -- whether that’sinserting a Drive file into an email or sharing Docs and photos from Drive on Google+. As that experience becomes seamless, having separate storage doesn’t make as much sense anymore. So over the coming weeks, you’ll get 30 GB of unified storage to use as you like between Drive and Gmail. Just as before, files created in Docs, Sheets and Slides don't count against your storage quota. Storage will also be shared with photos you upload to Google+ larger than 2048px. 

With this new combined storage, you can use your storage how you need to. If your business or school is like most, you know how many important emails and attachments you receive every day. As a result of today’s storage change, Gmail inboxes for Google Apps customers are no longer limited to 25 GB -- any additional storage you purchase can be shared and used by Gmail. Or alternatively, if you’re only using a few gigabytes of email storage, but have a lot of large documents and files stored in Google Drive, you can now use your storage primarily for Drive. 



We'll also be making updates to the Google Drive storage page, so you can better understand how you're using your storage. Simply hover over the pie chart to see a breakdown of your storage use across Google Drive, Gmail, and Google+ Photos.

This update will roll out to Rapid Release domains over the coming weeks. 

[SourcePosted by Clay Bavor, Director of Product Management, Google Apps]

ইসলামী আন্দোলনের এক বীর সেনানী মুহাম্মদ কামারুজ্জামান


মুহাম্মদ কামারুজ্জামান

মুহাম্মদ কামারুজ্জামান বাংলাদেশের সরকার ও রাজনৈতিক ময়দান, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রাম, গণমাধ্যম তথা সাংবাদিকতা ও কূটনৈতিক মহলসহ দেশের সর্বত্র একটি আলোচিত নেতৃত্ব। এক কথায় বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে এক পরিচিত ব্যক্তিত্ব। ইসলামী আন্দোলনের এক বীর সেনানী মুহাম্মদ কামারুজ্জামান। শুধু তাই নয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আজ কামারুজ্জামান একটি উল্লেখযোগ্য নাম। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সংগঠক আজকের সফল রাজনীতিবিদ ও ইসলামী চিন্তাবিদ মুহাম্মদ কামারুজ্জামান। বাংলাদেশে আদর্শ ও ইসলামী রাজনৈতিক ধারা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় মুহাম্মদ কামারুজ্জামান বিগত চার দশক ধরে তার মেধা মনন বুদ্ধি দিয়ে নিরলস পরিশ্রম ও আন্দোলন সংগ্রামে আত্মনিবেদিত এক প্রাণ। ১৯৭০-র দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সফল ও মেধাবী ছাত্রনেতা হিসেবে বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে মেধার বিকাশ ও গুণগত পরিবর্তন ঘটাতে এবং দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা বিকাশ ও প্রতিষ্ঠায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৮০-র দশকে একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশে অবাধ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
মুহাম্মদ কামারুজ্জামান যেমন একদিকে সফল রাজনীতিবিদ ও সংগঠক অন্যদিকে একজন সফল সাংবাদিক ও সম্পাদক। তারই সফল সম্পাদনায় প্রকাশিত সাপ্তাহিক সোনার বাংলা আজ বাংলাদেশের শীর্ষে অবস্থানকারী সাপ্তাহিক পত্রিকা। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী মুহাম্মদ কামারুজ্জামান তাই আজ সরকার ও ইসলাম বিরোধী রাজনৈতিক মহলের মারাত্মক অপপ্রচারের শিকার। সরকারের রোষানলে পড়ে দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ মুহাম্মদ কামারুজ্জামান আজ কারাগারের এক দুর্বিষহ জীবন অতিবাহিত করছেন।
যে কথিত অভিযোগে কামারুজ্জামানকে আজ কারাগারে দণ্ড দেয়া হলো। সে অভিযোগের কোনো রকম সত্যতা নেই। শেরপুরসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অভিমত কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আজ যে কথিত অভিযোগ আনার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে তার মূল কারণ হলো তিনি আজ বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামী ও আদর্শিক চেতনার সমন্বয় ঘটিয়ে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গঠনে অনন্য অবদান রেখে চলেছেন। তিনি একজন জাতীয় রাজনীতিবিদ ও ইসলামী চিন্তাবিদ। রাজনৈতিক ময়দানে তার অবদান দেশের ইসলাম বিরোধী শক্তির সহ্য হচ্ছে না।  বাংলাদেশের ইসলামী রাজনীতির অন্যতম এই সিপাহশালার মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ইসলাম বিরোধী শক্তির এক মহাআতঙ্ক। তাই তার বিরুদ্ধে আজ যুদ্ধাপরাধের কথিত অভিযোগ।
রাজনৈতিক ময়দানে প্রত্য অংশগ্রহণের পাশাপাশি মুহাম্মদ কামারুজ্জামান বাংলাদেশের রাজনীতি, ইসলামী সংগঠন ও আন্দোলন, গণতন্ত্র ও তার বিকাশ, নির্বাচন, গণমাধ্যম, সমাজ সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রচুর চিন্তা ও গবেষণা করে চলেছেন। তিনি বাংলাদেশে অবাধ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাসহ ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠা ও তার কৌশল নিয়ে বেশ কয়েকটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং সেই বইগুলো পাঠকমহলে বেশ সমাদৃত হয়েছে। তার সর্বশেষ বই ‘সাঈদ বদিউজ্জামান নুরসী’ সাপ্তাহিক সোনার বাংলায় বিগত কয়েকমাস ধরে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ১৯৫২ সালের ৪ জুলাই শেরপুর জেলার বাজিতখিলা ইউনিয়নের মুদিপাড়া গ্রামে এক ধর্মপ্রাণ মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কুমরী কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনার পর শেরপুর জিকেএম ইন্সটিটিউশনে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হন। তিনি প্রথম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী  পর্যন্ত বরাবরই প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। অষ্টম শ্রেণীতে তিনি আবাসিক বৃত্তি পান। ১৯৬৭ সালে জিকেএম ইন্সটিটিউশন থেকে ৪টি বিষয়ে লেটারসহ এসএসসি পরীায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন এবং আবাসিক বৃত্তি লাভ করেন। পুরো শেরপুরে একজন ভালো ছাত্র হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন। এছাড়াও তিনি ছাত্রজীবন হতেই একজন বিনয়ী ভদ্র অমায়িক মানুষ হিসেবে সর্বজনবিদিত। ১৯৬৭-৬৯ সেশনে জামালপুর আশেক মাহমুদ কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে অধ্যয়ন করেন। কিন্তু দেশে ’৬৯ এর গণআন্দোলন শুরু হওয়ায় পরীায় অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকেন। ১৯৭১ (১৯৭২ সালে অনুষ্ঠিত) সালে মোমেনশাহী নাসিরাবাদ কলেজ থেকে এইচএসসি পরীায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৭৩ (১৯৭৪ সালে অনুষ্ঠিত) সালে ঢাকা আইডিয়াল কলেজ থেকে ডিস্ট্রিংশনসহ বিএ পাস করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তি হন। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্র হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবৃত্তি লাভ করেন। ১৯৭৬ সালে কৃতিত্বের সাথে সাংবাদিকতায় এমএ পাস করেন।
শেরপুরের বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্ব মরহুম কাজী ফজলুর রহমানের আহ্বানে জিকেএম ইন্সটিটিউটে নবম শ্রেণীর ছাত্র থাকাকালীন তিনি ইসলামী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেন। কলেজে পা দিয়েই তিনি ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি প্রথম ঢাকা মহানগরীর সভাপতি এবং পরে সেক্রেটারি জেনারেল মনোনীত হন। ১৯৭৮ সালের ১৯ এপ্রিল ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং একমাস পরই নির্বাচনের মাধ্যমে সেশনের বাকী সময়ের জন্য কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৮-৭৯ সালেও শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে পুন:নির্বাচিত হন।
বিশ্ব মুসলিম যুব সংস্থা (ওয়ামী) এবং বাংলাদেশ সরকারের যুব মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ১৯৭৯ সালে মৌচাক স্কাউট ক্যাম্পে আন্তর্জাতিক ইসলামী যুব সম্মেলন আয়োজন করা হয়। এতে তিনি প্রধান সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় যুব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন শেরপুরের আরেক কৃতী সন্তান মরহুম খন্দকার আব্দুল হামিদ। উলেখ্য যে, এই সম্মেলনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন।
ছাত্র জীবন শেষে মুহাম্মদ কামারুজ্জামান সাংবাদিকতাকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। ১৯৮০ সালে তিনি বাংলা মাসিক ‘ঢাকা ডাইজেস্ট’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৮১ সালে তাকে সাপ্তাহিক ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সোনার বাংলায় ুরধার লেখনির কারণে এরশাদের শাসনামলে পত্রিকাটির প্রকাশনা নিষিদ্ধ হয়। তিনি সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে কতিপয় ব্যক্তির সহযোগিতায় একটি ব্যতিক্রমধর্মী সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ‘নতুন পত্র’ প্রকাশ করেন, অবশ্য এ পত্রিকাটির প্রকাশনা বর্তমানে বন্ধ আছে। মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ১৯৮৩ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত দশ বছর দৈনিক সংগ্রামের নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। মুহাম্মদ কামারুজ্জামান জাতীয় প্রেস কাবের একজন স্থায়ী সদস্য এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য ছিলেন। ১৯৮৫-৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন।
পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ১৯৭৯ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। ১৯৮১-৮২ সালে তিনি কিছুদিনের জন্য ঢাকা মহানগরী জামায়াতের জয়েন্ট সেক্রেটারি ছিলেন। ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে তাঁকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব দেয়া হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশি সময় দেবার প্রয়োজনেই ১৯৯৩ সালে তিনি দৈনিক সংগ্রামের নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন। ১৯৯২ সাল থেকে তিনি জামায়াতের অন্যতম সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক কমিটি ও লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য হিসেবে বিগত স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ১৯৮৩-৯০ পর্যন্ত তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯৩-৯৫ সাল পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
বর্তমানে তিনি জামায়াতের নির্বাহী কমিটি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ ও বিভিন্ন কমিটির সদস্য এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মতায় আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে দুর্যোগের ঘনঘটা দেখা দেয়। এ সময় তিনি ইসলামী ও জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্য গড়ে তোলায় দুঃসাহসিক ভূমিকা পালন করেছেন, যা জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে। চারদলের কেন্দ্রীয় লিয়াজোঁ কমিটির অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসাবে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। ইসলামী ও জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্য প্রচেষ্টায় তিনি অকান্ত পরিশ্রম করেছেন। [সূত্র]


Thursday, May 9, 2013

আমার মেডিকেল জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন


৫ তারিখের অভিজ্ঞতা। আমার মেডিকেল জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন।।


পুরোপুরি যুদ্ধাবস্থা। একতরফা যুদ্ধ। পল্টনমোড় আর নাইটিংগেল মোড় থেকে পুলিশ সমানে গুলি করছে। দুই মোড়ের মাঝখানে বিজয়নগর রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ। কারও হাতে কোন অস্ত্র নাই। সর্বোচ্চ একটা লাঠি। কেউ ইন ভেঙ্গে টুকরোগুলো পুলিশের দিকে ছুড়ে মারছে। আবার কেউ ভয়ঙ্কর কাঁদানে গ্যাস থেকে বাঁচার জন্য আশপাশ থেকে গাছ-কাঠ জড়ো করে রাস্তার মাঝখানে আগুন দিচ্ছে। কেউবা পুলিশের সাঁজোয়া যানগুলোকে বাঁধা দিতে গাঠ কেটে রাস্তা ব্লক করে দেয়ার চেষ্টা করছে।

এর মধ্যেই আমরা মেডিকেল ক্যাম্প নিয়ে একটা গলির মধ্যে অবস্থান নিয়েছিলাম। একটার পর একটা রোগী আসছে। পল্টনের দিক থেকে প্যাসেন্ট আসছিল বেশি। কেউ নিয়ে আসছিল হাঁটিয়ে। কেউ আনছিল মোটরবাইকে করে। আমাদের হাতে গছিয়ে দিয়েই আবার দ্রুত চলে যাচ্ছিল পল্টনের দিকে। যেন চলমান এম্বুলেন্স।


আমাদের বেড ছিল শুধু দুটি। রাস্তায় সামিয়ানা-কাপড় বিছিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছিলাম। আমরা এম্বুলেন্স নিয়েই গিয়েছিলাম। সিভিয়ারলি ইনজুরড প্যাসেন্টদের ফাস্ট এইড দিয়েই এম্বুলেন্সে করে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হসপিটালে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছিল। এর মধ্যেই আছরের নামাযের সময় তায়াম্মুম করে রাস্তায় নামাযে দাঁড়িয়েছিলাম। জামাত করছিলাম আমরা কয়েকজন।

কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ হানা দেয় আমাদের গলিতে। তিন রাকাত শেষ হয়েছে তখন। শত শত মানুষের দিগ্বিদিক দৌড়া-দৌড়ি। নামায অসমাপ্ত রেখেই পেছন দিকে দৌড় দিলাম। নইলে মানুষের পায়ের তলায় পড়ে পিষ্ট হয়ে রাস্তায় মিশে যাওয়ার চান্স ছিল। কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে পুলিশ চলে যায়। আমরা আবার একটু ভিতরের দিকে গিয়ে আমাদের ক্যাম্প বসাই। চিকিৎসা চলছিল। মাগরিবের নামাযও পড়লাম সময়মত।

এর মধ্যেই পুলিশ সম্ভবত অন্যদিকে সরে গিয়েছিল। আমরা কয়েকজন নাইটিংগেল মোড়সহ ইসলামী ব্যাংক হসপিটালে ঘুরে আসি। লোকজন প্রচুর ক্ষেপে ছিল। নিরীহ মানুষের উপর গুলি ছোড়ার কারণেই আসলে মানুষের ক্ষোভ জমছিল। আমাদের মনে হয়েছে পুলিশকে পেলে ছিড়ে খেয়ে ফেলবে। কিছুক্ষণ পরিস্থিতি দেখে ক্যাম্পে ফিরে আসি আমরা।

সন্ধ্যা সাতটার দিকে আমাদের ক্যাম্প এলাকায় আবার পুলিশের হানা। এবারে পুলিশ গুলি ছোড়ে। আমরা পালাতে গিয়েও আমাদের তিনজন ভাই আহত হয়। এক ভাইয়ের শরীরের এক পাশে অনেকগুলো পিলেট বিঁধে। আমার মাথায় লাগে তিনটা। সাধারণ মানুষ আহত হয়েছে শতশত। পরিস্থিতি একটু শান্ত হলে আমরা আমাদের ক্যাম্পের ৮-১০ জন সিনিয়র বাদে সবাইকে যেকোন উপায়ে হলে চলে আসার জন্য বলি।

ক্যাম্প তছনছ হয়ে গিয়েছিল। আমরা আগের জায়গা থেকে ক্যাম্প সরিয়ে আরো ভিতরে নিয়ে যাই। ওখানেও লোকজনের সহায়তায় চিকিৎসা চলছিল। এর মধ্যেই দুইজন সিরিয়াস প্যাসেন্ট আসে। একজনের মাথা ফেটে গিয়েছে। কোনভাবেই ব্লিডিং বন্ধ হচ্ছিল না। আমাদের এক সিনিয়র ডাক্তার ভাই ইনস্ট্যান্ট সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই স্টিচ পর্যন্ত দিতে বাধ্য হলেন। আরেকজন ভাইয়ের ডান হাতের বাহুর উপরের দিকে গুলি ঢুকেছে। সেটা বের করতে প্রায় তিন স্কোয়ার ইঞ্চি গর্ত করতে হয়েছে। সেখানেও ড্রেসিং দিয়ে আটকে দেয়া হল।

এর মধ্যেই কিভাবে যেন খাবারের ব্যবস্থা হয়ে গেল। আমরা দুই-তিনজন করে ভাগেযোগে খেয়ে নিলাম। আবার উত্তেজনা শোনা যাচ্ছিল। পুলিশ আসবে আসবে ভাব। আমরা কয়েকজন গলি থেকে বের হয়ে বিজয়নগর রাস্তায় আসলাম পরিস্থিতি বুঝার জন্য। দেখলাম তখনও গাছ কেটে বেরিকেড দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আগুন ধরানো হচ্ছে। চারদিকে অন্ধকার আর ধোয়া। কাঁদানের গ্যাসের ঝাঁঝ।

সেখান থেকে ফিরে আবার দুঃসংবাদ। এর মধ্যেই স্থানীয় ছাত্রলীগের ছেলেরা আমাদের ক্যাম্পে আক্রমণ করে সবকিছু ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। টেবিল-চেয়ার-ওষুধপত্র সব। ওরা চলে যাওয়ার পর কিছু ওষুধপত্র আশপাশের লোকজন উদ্ধার করে পাশের একটা মসজিদে রেখে আসে। আমাদের ভাইয়েরা পাশের একটা স্টোররুমে আশ্রয় নিয়েছিল। তাই সে যাত্রা বেঁচে যায়। এরপর আর চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয় নি।

আমরা আমাদের সিরিয়াস প্যাসেন্ট দুজন নিয়ে পাশের একটা মসজিদে আশ্রয় নেই। সেখানেই হালকা ম্যানেজমেন্ট চলছিল। হসপিটালাইজেশন জরুরি ছিল। এম্বুলেন্স যোগাড়ের চেষ্টা চলছিল। ইসলামী ব্যাংক হসপিটাল খুব কাছে হওয়ার পরও এম্বুলেন্স যোগাড় করা যাচ্ছিল না। এম্বুলেন্স আসতে চাচ্ছিল না এই যুদ্ধাবস্থার মধ্যে। রাত প্রায় ১২ টার দিকে আমরা মসজিদ ছাড়ি। তখনও এম্বুলেন্স যোগাড়ের চেষ্টা চলছিল।

পাশেই আমাদের এক শুভাকাঙ্ক্ষীর সাথে পরিচয় হয়েছিল আমাদের এক ভাইয়ের। আমরা দশজন তাঁর ফ্লাটে রাত কাটাই। মতিঝিলের এক ভাইয়ের সাথে আমরা সর্বশেষ রাত দুটোয় যোগাযোগ করেছিলাম। তখনও কোন সমস্যা হচ্ছিল না সেখানে। কিন্তু সকালে উঠে যখন শুনি মতিঝিল সাফ করে দেয়া হয়েছে তখন শরীর কাঁপছিল। নিজেকে খুব খুব অসহায় মনে হচ্ছিল। আমরা কেউ কল্পনাও করতে পারিনি নিরস্ত্র নিরীহ মানুষগুলোর উপর রাতের অন্ধকারে সরকারের সুশিক্ষিত অস্ত্রধারী বাহিনী এইভাবে অপারেশন পরিচালনা করবে। মনটা খারাপ হয়ে গেল।

ফজরের নামাজ পড়ে এপ্রোন কাঁধে নিয়ে হেঁটে হেঁটে হলের দিকে যাত্রা করলাম। রাজপথের আকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতা নিয়ে আসলাম।

সামনে নিশ্চিতভাবেই আরও কঠিন পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে ইসলামী আন্দোলনের জন্য। আল্লাহর সাহায্যের মুখাপেক্ষী আমরা। আপনাদের কাছে দোয়া ছাড়া আর কিছুই চাওয়ার নেই আমাদের।।


আমি চাই না যে, কেউ বলুক একজন মুসলিম কথা দিয়ে তা রাখে নি

[আমার সৌন্দর্য ইসলাম। আমার গর্ব ইসলাম। আমি কৃতজ্ঞ যে, আমি মুসলিম]

উমর রাদিআল্লাহু তাআলা আনহুর শাসন আমল।

একদিন ২ জন লোক এক বালককে টেনে ধরে নিয়ে আসল তাঁর দরবারে ।

উমর রাঃ তাদের কাছে জানতে চাইলেন যে, 'ব্যাপার কি, কেন তোমরা একে এভাবে টেনে এনেছ?' তারা বলল 'এই বালক আমাদের পিতাকে হত্যা করেছে।
'উমর রাঃ বালকটিকে বললেন 'তুমি কি সত্যিই তাদের পিতাকে হত্যা করেছ ?

'বালকটি বলল' হ্যা আমি হত্যা করেছি তবে তা ছিল দূর্ঘটনাবশত, আমার উট তাদের বাগানে ঢুকে পড়েছিল তা দেখে তাদের পিতা একটি পাথর ছুড়ে মারল,যা উটের চোখে লাগে । আমি দেখতে পাই যে উটটি খুবই কষ্ট পাচ্ছিল, যা দেখে আমি রাগান্বিত হই এবং একটি পাথর নিয়ে তার দিকে ছুড়ে মারি, পাথরটি তার মাথায় লাগে এবং সে মারা যায়।'

উমর (রাঃ) ২ভাইকে বলেলন, 'তোমরা কি এ বালককে ক্ষমা করবে ?' তারা বলল 'না, আমরা তার মৃত্যূদন্ড চাই।'
উমর রাঃ বালকটির কাছে জানতে চাইলেন 'তোমার কি কোন শেষ ইচ্ছা আছে?

'
বালকটি বলল 'আমারআব্বা মারা যাওয়ার সময় আমার ছোট ভাইয়ের জন্য কিছুসম্পদ রেখে যান, যা আমি এক যায়গায় লুকিয়ে রেখেছি । আমি তিন দিন সময় চাই, যা আমি সেই জিনিস গুলো আমার ভাইকে দিয়ে আসতে পারি। আমার কথা বিশ্বাস করুন।'

উমর রাঃ বললেন' আমি তোমাকে বিশ্বাস করতে পারি যদি তুমি এক জন জামিন জোগাড় করতে পার যে নিশ্চয়তা দেবে যে তুমি ফিরে আসবে?' বালকটি দরবারের চারদিকে তাকাল এত মানুষের মধ্যে কেউই তার জামিন হলনা, সবাই নিচের দিকে তাকিয়ে রইল। হঠাত্দ রবারের পেছন থেকে একটি হাত উঠল, কার হাত ছিল এটি?

প্রখ্যাত সাহাবী আবু যর গিফারী (রাঃ) , তিনি বললেন 'আমি তার জামিন হব' চিন্তা করুন জামিন মানে হল, যদি বালকটি ফিরে না আসে তবে আবু যর গিফারী রাঃ এর শিরচ্ছেদ করা হবে। সুতরাং, বালকটিকে ছেড়ে দেওয়া হল । এক দিন গেল, দ্বিতীয় দিনেও বালকটি আসল না, তৃতীয় দিনে ২ভাই আবু যর গিফারীরাঃ এর কাছে গেল । আবু যর রাঃ বললেন 'আমি মাগরিব পর্যন্ত অপেক্ষা করব' মাগরিবের কিছুক্ষণ আগে আবু যর গিফারী রাঃ দরবারের দিকে রওনা হলেন। মদিনার লেকজন তাঁর পেছন পেছন যেতে লাগল। সবাই দেখতে চায় কি ঘটে। 

আবু যর রাঃ একটি বালকের ভুলের কারণে আজ জীবন দিচ্ছেন । হঠাত্ আজানের কিছুক্ষণ আগে বালকটি দৌড়ে আসল । লোকেরা সবাই অবাক হল । উমর রাঃ বললেন 'হে বালকতুমি কেন ফিরে এসেছ? আমিতো তোমার পিছনে কোন লোক পাঠাইনি । কোন জিনিসটা তোমাকে ফিরিয়ে আনল?' বালকটি বলল 'আমি চাই না যে, কেউ বলুক একজন মুসলিম কথা দিয়েছিন কিন্তু সে তা রাখে নি তাই আমি ফিরে এসেছি'

উমর রাঃ আবু যর রাঃ কে বললেন 'হে আবু যর তুমি কেন এই বালকের জামিন হলে?

'
আবু যর রাঃ বললেন' আমি দেখলাম একজন মুসলমানের সাহায্য প্রয়োজন, আমি চাই না যে, কেউ বলুক একজন মুসলমানের সাহায্য প্রয়োজন ছিল কিন্তু কোন মুসলমান তাকে সাহায্য করেনি।'

এ কথা শুনে দুই ভাই বলল 'আমরাও চাই না যে কেউ বলুক একজন মুসলমান ক্ষমা চেয়েছিল কিন্তু অন্য মুসলমান তাকে ক্ষমা করেনি' তারপর বালকটি মুক্তি পেল । 

বর্তমান সমাজে কি পাওয়া যাবে মুসলিম ভ্রাতৃত্বের এই অপরূপ দৃষ্টান্ত??

যারা ইসলামকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে তারা যেন দেখে 

কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সাত অভিযোগ


কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সাত অভিযোগ

[প্রসিকিউটর একটি অভিযোগও প্রমাণ করতে সক্ষম হন নাই]
১. বদিউজ্জামান হত্যা : ১৯৭১ সালের ২৯ জুন সকালে শেরপুরের ঝিনাইগাতী থানার রামনগর গ্রামের আহম্মেদ মেম্বারের বাড়ি থেকে বদিউজ্জামানকে অপহরণ ও নির্যাতন করে পরদিন হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়।
২. প্রিন্সিপাল হান্নানকে নির্যাতন : মুক্তিযুদ্ধের সময় শেরপুর কলেজের অধ্য সৈয়দ আবদুল হান্নানকে মাথা ন্যাড়া করে চুনকালি মাখিয়ে পুরো শহর ঘোরানো হয়। এ ঘটনায়ও কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়।
৩. সোহাগপুর গণহত্যা : ১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই আলবদর ও রাজাকাররা পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে শেরপুরের সোহাগপুর গ্রামে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায় এবং নারীদের ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় জড়িত উল্লেখ করে কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়।
৪. গোলাম মোস্তফা হত্যা : ১৯৭১ সালের ২৩ আগস্ট আলবদর সদস্যরা গোলাম মোস্তফাকে ধরে সুরেন্দ্র মোহন সাহার বাড়িতে আলবদর ক্যাম্পে নিয়ে যান। সেখানে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়।
৫. লিয়াকত-মুজিবুরসহ অজ্ঞাত ৮ জনকে হত্যা : মুক্তিযুদ্ধকালে রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে শেরপুরের চকবাজার থেকে লিয়াকত আলী ও মুজিবুর রহমানকে অপহরণ করে বাঁথিয়া ভবনের রাজাকার ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়। পরে দু’জনসহ ১৩ জনকে ঝিনাইগাতীর আহম্মেদনগর সেনাক্যাম্পে পাঠানো হয়। পাকিস্তান আর্মিরা লিয়াকত, মুজিবুরসহ আটজনকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এই ঘটনায়ও কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়।
৬. টুনু হত্যা : ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে টুনু ও জাহাঙ্গীরকে ময়মনসিংহের জেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে আলবদর ক্যাম্পে নিয়ে টুনুকে সেখানে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। জাহাঙ্গীরকে পরে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় কামারুজ্জামানকে অভিযুক্ত করা হয়।
৭. দারাসহ ছয় হত্যা : মুক্তিযুদ্ধকালে ২৭ রমজান ময়মনসিংহের গোলাপজান রোডের টেপা মিয়া ও তার বড় ছেলে জহুরুল ইসলাম দারাকে ধরে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় আলবদর ক্যাম্পে নেয়া হয়। পরদিন ওই দু’জনসহ সাতজনকে আলবদররা গুলি করলে টেপা মিয়ার পায়ে লাগে। তিনি পালাতে সম হন। অন্য ছয়জনকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায়ও কামারুজ্জামানকে অভিযুক্ত করা হয়।
মামলার বিবরণ
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগের পুলিশের দায়ের করা মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুলাই কামারুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়।
২০১১ সালের ৫ ডিসেম্বর কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) ট্রাইব্যুনালে জমা দেয় রাষ্ট্রপক্ষ। ২০১২ সালের ১২ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। একই বছরের ৩১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-১।
এরপর ১৬ এপ্রিল কামারুজ্জামানের মামলাটি প্রথম ট্রাইব্যুনাল থেকে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ১৬ মে আসামিপ ও ২০ মে রাষ্ট্রপরে আইনজীবীরা কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ করেন।
গত বছরের ৪ জুন কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তার বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হত্যা, নির্যাতন, দেশত্যাগে বাধ্য করাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি ঘটনায় অভিযোগ গঠন করা হয়।
গত বছরের ১৫ জুলাই থেকে এ বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) আব্দুর রাজ্জাক খানসহ রাষ্ট্রপরে মোট ১৮ জন সাী স্যা দেন।
কামারুজ্জামানের পে গত ৬ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত মোট পাঁচজন ডিফেন্স সাী স্যা দিয়েছেন। তারা হচ্ছেনÑ মো: আরশেদ আলী, আশকর আলী, কামারুজ্জামানের বড় ছেলে হাসান ইকবাল, বড় ভাই কফিল উদ্দিন ও আব্দুর রহিম। তাদের জেরা সম্পন্ন করেছে রাষ্ট্রপ।
গত ২৪ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত এবং ১৬ এপ্রিল পাঁচ কার্যদিবসে রাষ্ট্রপ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। অন্য দিকে ৩ থেকে ১৬ এপ্রিল চার কার্যদিবসে আসামিপে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন কামারুজ্জামানের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক ও আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিকী।
মুক্তিযুদ্ধের সময় কামারুজ্জামান এইচএসসির ছাত্র ছিলেন এবং বাড়িতেই অবস্থান করতেন
মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের বড় ভাই মো: কফিল উদ্দিন গত ১৩ মার্চ ট্রাইব্যুনালে দেয়া সাক্ষ্যে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় কামারুজ্জামান আমাদের বাড়িতেই অবস্থান করত। কামারুজ্জামান যুদ্ধাকালীন সময়ে শেরপুর শহরের মাটি মাড়ায়নি। সে তখন এইচএসসির ছাত্রছিল। জবানবন্দীতে তিনি বলেছিলেন, ১৯৬৭ সালে কামারুজ্জামান জিকে স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাস করেন। তারপর জামালপুর আশেক মাহমুদ কলেজে আইএসসিতে ভর্তি হয়। কিন্তু ফাইনাল পরীক্ষা সময় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। যেহেতু সে পরের বছর একই কলেজ থেকে জুনিয়রদের সাথে পরীক্ষা দিতে রাজি হয়নি সেহেতু তাকে ময়মনসিংহ নাসিরাবাদ কলেজে ভর্তি করি। নাসিরাবাদ কলেজে ভর্তি হওয়ার পর দেশে আন্দোলন শুরু হয়, তখন আমার মা বললেন, তাকে তুমি ময়মনসিংহ থেকে নিয়ে এসো। তখন আমি ময়মনসিংহ গিয়ে আমার ভাই কামারুজ্জামানকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসি। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সরকার আইএ পরীক্ষার সময়সূচি দিয়েছিল, সেই পরীক্ষায় আমার ভাই অংশগ্রহণ করেনি। পরে ১৯৭২ সালে নাসিরাবাদ কলেজ থেকে একই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে দ্বিতীয় বিভাগে পাস করে। স্কুল বা কলেজ (আশেক মাহমুদ ও নাসিরাবাদ) লেখাপড়া কালীন সময় কখনো রাজনীতি করত না। যুদ্ধকালীন সময়ে সে আমাদের বাড়িতেই অবস্থান করত। [সূত্র]

Wednesday, May 8, 2013

মুক্তিযুদ্ধে নষ্ট-ভ্রষ্ট বামদের কোনো অবদান ছিল না, অনেকেই দালাল ছিল

‘হেফাজতের ঘটনা আওয়ামীলীগের ভোটের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে’

মহান মুক্তিযুদ্ধে নষ্ট-ভ্রষ্ট বামদের কোনো অবদান ছিল না। বামদের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের সময় কোলাবরেটর, দালাল ছিল। তাদের অনেকেই সুযোগ ও বয়স থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধে অংশ নেয়নি। আজকের বাংলাভিশনের লাইভ টকশো ফ্রন্ট লাইনে সরকারদলীয় এমপি গোলাম মওলা রনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, এই নষ্ট-ভ্রষ্ট বামদের কোনো ভালো কাজের নজির নেই। তারা কোমল-মতি তরুণদের আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করে এবং উল্টা-পাল্টা বক্তব্যের মাধ্যমে দেশের সাধারন আলেম সমাজকে ক্ষেপিয়ে তুলেছে।
তিনি বলেন, গণজাগরন মঞ্চকে দিনের পর দিন সুযোগ দেওয়া না হলে আজকের হেফাজতকে মাঠে নামতে হতো না। হেফাজতের এই ঘটনা আওয়ামীলীগের ভোটের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে। আওয়ামীলিগের কিছু নেতাকে এখনও অনেক লোক পছন্দ করে। তাই উচিত হবে হেফাজতের সাথে দুরত্ব মিটিয়ে ফেলা।
[সূত্র]

Sunday, May 5, 2013

সুরক্ষিত রাখুন এ্যানড্রয়েড ফোন


অ্যান্ড্রয়েড ফোন সুরক্ষার ১০ উপায়

স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের বেশকিছু নতুন সুবিধা এনেছে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম। তবে এর বেশকিছু নিরাপত্তা সমস্যার কথাও বলা হয়ে থাকে। আর স্মার্টফোনের নিরাপত্তাবিষয়ক আলোচনায় সবসময়ই বলা হয়, ব্যবহারকারী চাইলেই সুরক্ষিত রাখতে পারবেন নিজের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনটি। অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন সুরক্ষিত রাখার দশ উপায় নিয়েই এবারের মেইনবোর্ড।

মোবাইল ডিভাইসে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম (ওএস) বেশকিছু নতুন সুবিধা এনেছে। কিন্তু এই অপারেটিং সিস্টেমটির নিরাপত্তা সমস্যাও কম নয়। প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট টেকনিউজডেইলি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ব্যবহারকারী চাইলেই সুরক্ষিত রাখতে পারবেন নিজের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনটি। হাতের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনটি সুরক্ষিত রাখার দশ উপায় নিয়েই এবারের মেইনবোর্ড।

অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার

আপনার অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনটি ক্ষমতা প্রায় একটি কম্পিউটারের সমান। কিন্তু এতেও রয়েছে বিভিন্ন দুর্বলতা। কম্পিউটারের মতো সহজেই স্মার্টফোনটি ভাইরাসের শিকার হতে পারে। এ জন্য অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনটিতে অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ইনস্টল করা প্রয়োজন। ফলে অধিকাংশ ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পাবে স্মার্টফোনটি।

ডাউনলোড করুন নিরাপদ অ্যাপ্লিকেশন 
অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জন্য রয়েছে অসংখ্য সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন। ব্যবহারকারী নিজের অজান্তেই অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিকর অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করেন। এ কারণে বিভিন্ন স্মার্টফোন নিরাপত্তা সংস্থা কোনো অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করার আগে এর নির্মাতা ও প্রদানকারী সাইট সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের।

মুছে ফেলুন অপরিচিত এসএমএস
অনেক স্মার্টফোন টেক্সট মেসেজ বা এসএমএস-এর মাধ্যমে ভাইরাস আক্রান্ত হয়। এমনও হতে পারে, আপনার স্মার্টফোনটিতে অপরিচিত নাম্বার থেকে মেসেজ এসেছে যে, আপনার ফোনটি ভাইরাসে আক্রান্ত। এ রকম মেসেজ খুললেই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে আপনার স্মার্টফোনটি। তাই সচেতন স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর উচিত সন্দেহজনক টেক্সট মেসেজ এলেই তা মুছে ফেলা।

সাবধান থাকুন 
অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করার সময় নিশ্চিত হয়ে নিন অ্যাপ্লিকেশনটির নির্মাতা সম্পর্কে। আপনার অ্যাপ্লিকেশনটি ‘পাইরেটেড’ কপি কি না তাও জেনে নিন। কারণ, এ রকম অ্যাপে থাকে স্মার্টফোনের জন্য ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার। আর তাই সবসময় ব্যবহার করুন নিরাপদ অ্যাপ্লিকেশন।

আপডেটেড রাখুন ওএস
কিছুদিন পরপরই বের হচ্ছে আপডেটেড ওএস, যার মাধ্যমেও নিশ্চিত করতে পারেন আপনার স্মার্টফোনটির নিরাপত্তা। আপডেটেড ওএস সবসময় চেষ্টা করে স্মার্টফোনটিকে আরও সুরক্ষিত রাখার ও বিভিন্ন নতুন সেবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার। সুতরাং ব্যবহারকারীদের উচিত অপারেটিং সিস্টেমের নতুন ভার্সন বের হলেই স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম আপডেট করে নেওয়া।

সাবধানে ব্যবহার করুন ‘ক্লাউড স্টোরেজ’
অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের ক্লাউড স্টোরেজ সুবিধাটি ব্যবহার করে সহজেই সংরক্ষণ করা যায় প্রয়োজনীয় তথ্য। তবে সেবাটি আরও সতর্কভাবে ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। ক্লাউড স্টোরেজ সেবাটির সঙ্গে একাধিক ফিচার ব্যবহার না করে পর্যাপ্ত ফাইল শেয়ার করার পরামর্শ দেন তারা।

ডেটা ব্যাকআপ রাখুন 
যে কোনো সময় নষ্ট, চুরি অথবা হারিয়ে যেতে পারে আপনার অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনটি। সে ক্ষেত্রে আশঙ্কা রয়েছে আপনার মূল্যবান ও ব্যক্তিগত তথ্য হারিয়ে যাবার এবং অন্য কারও হাতে চলে যাওয়ার। এ ঝামেলা থেকে বাঁচার জন্য ব্যবহার করুন ব্যাকআপ। ফলে ফিরে পাবেন আপনার দরকারি তথ্যগুলো। আর যদি আপনার ফোনটি হারিয়ে যায় অথবা চুরি হয়, তাহলে ‘রিমোট-ওয়াইপ ফিচার’ ব্যবহার করে মুছে ফেলা যাবে ব্যক্তিগত তথ্য। এতে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা যাবে। সুতরাং ব্যবহার করুন ফিচারটি এবং নিরাপদ রাখুন আপনার ফোন।

আর্থিক লেনদেনে সাবধান
স্মার্টফোন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের মাধ্যমে লেনদেন না করার পরামর্শই দিয়েছেন। এতে করে ক্রেডিট কার্ডভিত্তিক ডেটা বেহাত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তারা জানিয়েছেন, ফোনের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন সহজ হলেও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

এনক্রিপ্ট করুন ডেটা
এনক্রিপশন বলতে বুঝায় ডেটাকে গোপন কোডে পরিণত করা। এনক্রিপশন ব্যবহার করে মেশিন চালানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এনক্রিপশন ব্যবহার করে ডেটার নিরাপত্তা বাড়ানো সম্ভব হয়। এনক্রিপটেড ডেটাতে প্রবেশ করতে পাসওয়ার্ডের প্রয়োজন পড়ে। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সুবিধাটির জন্য সেটিংস থেকে সিকিউরিটি অপশন সিলেক্ট করে এনক্রিপ্ট চালু করতে পারবেন ব্যবহারকারী।

চালু করুন পাসকোড 
অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনকে সুরক্ষিত রাখতে ব্যবহার করুন পাসকোড অথবা প্যাটার্ন লক। আপনার পাসকোড যদি সংখ্যামূলক হয়, তবে কোডটিকে চার ডিজিটের বেশি রাখুন। আকারে বড় এবং জটিল পাসকোড ব্যবহার করা বেশি নিরাপদ। পাসকোড বা প্যাটার্ন লকের মাধ্যমে নিরাপদ রাখুন আপনার অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনটি।