কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সাত অভিযোগ
[প্রসিকিউটর একটি অভিযোগও প্রমাণ করতে সক্ষম হন নাই]
১. বদিউজ্জামান হত্যা : ১৯৭১ সালের ২৯ জুন সকালে শেরপুরের ঝিনাইগাতী থানার রামনগর গ্রামের আহম্মেদ মেম্বারের বাড়ি থেকে বদিউজ্জামানকে অপহরণ ও নির্যাতন করে পরদিন হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়।
২. প্রিন্সিপাল হান্নানকে নির্যাতন : মুক্তিযুদ্ধের সময় শেরপুর কলেজের অধ্য সৈয়দ আবদুল হান্নানকে মাথা ন্যাড়া করে চুনকালি মাখিয়ে পুরো শহর ঘোরানো হয়। এ ঘটনায়ও কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়।
৩. সোহাগপুর গণহত্যা : ১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই আলবদর ও রাজাকাররা পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে শেরপুরের সোহাগপুর গ্রামে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায় এবং নারীদের ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় জড়িত উল্লেখ করে কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়।
৪. গোলাম মোস্তফা হত্যা : ১৯৭১ সালের ২৩ আগস্ট আলবদর সদস্যরা গোলাম মোস্তফাকে ধরে সুরেন্দ্র মোহন সাহার বাড়িতে আলবদর ক্যাম্পে নিয়ে যান। সেখানে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়।
৫. লিয়াকত-মুজিবুরসহ অজ্ঞাত ৮ জনকে হত্যা : মুক্তিযুদ্ধকালে রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে শেরপুরের চকবাজার থেকে লিয়াকত আলী ও মুজিবুর রহমানকে অপহরণ করে বাঁথিয়া ভবনের রাজাকার ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়। পরে দু’জনসহ ১৩ জনকে ঝিনাইগাতীর আহম্মেদনগর সেনাক্যাম্পে পাঠানো হয়। পাকিস্তান আর্মিরা লিয়াকত, মুজিবুরসহ আটজনকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এই ঘটনায়ও কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়।
৬. টুনু হত্যা : ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে টুনু ও জাহাঙ্গীরকে ময়মনসিংহের জেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে আলবদর ক্যাম্পে নিয়ে টুনুকে সেখানে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। জাহাঙ্গীরকে পরে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় কামারুজ্জামানকে অভিযুক্ত করা হয়।
৭. দারাসহ ছয় হত্যা : মুক্তিযুদ্ধকালে ২৭ রমজান ময়মনসিংহের গোলাপজান রোডের টেপা মিয়া ও তার বড় ছেলে জহুরুল ইসলাম দারাকে ধরে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় আলবদর ক্যাম্পে নেয়া হয়। পরদিন ওই দু’জনসহ সাতজনকে আলবদররা গুলি করলে টেপা মিয়ার পায়ে লাগে। তিনি পালাতে সম হন। অন্য ছয়জনকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায়ও কামারুজ্জামানকে অভিযুক্ত করা হয়।
মামলার বিবরণ
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগের পুলিশের দায়ের করা মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুলাই কামারুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগের পুলিশের দায়ের করা মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুলাই কামারুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়।
২০১১ সালের ৫ ডিসেম্বর কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) ট্রাইব্যুনালে জমা দেয় রাষ্ট্রপক্ষ। ২০১২ সালের ১২ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। একই বছরের ৩১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-১।
এরপর ১৬ এপ্রিল কামারুজ্জামানের মামলাটি প্রথম ট্রাইব্যুনাল থেকে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ১৬ মে আসামিপ ও ২০ মে রাষ্ট্রপরে আইনজীবীরা কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ করেন।
গত বছরের ৪ জুন কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তার বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হত্যা, নির্যাতন, দেশত্যাগে বাধ্য করাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি ঘটনায় অভিযোগ গঠন করা হয়।
গত বছরের ১৫ জুলাই থেকে এ বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) আব্দুর রাজ্জাক খানসহ রাষ্ট্রপরে মোট ১৮ জন সাী স্যা দেন।
কামারুজ্জামানের পে গত ৬ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত মোট পাঁচজন ডিফেন্স সাী স্যা দিয়েছেন। তারা হচ্ছেনÑ মো: আরশেদ আলী, আশকর আলী, কামারুজ্জামানের বড় ছেলে হাসান ইকবাল, বড় ভাই কফিল উদ্দিন ও আব্দুর রহিম। তাদের জেরা সম্পন্ন করেছে রাষ্ট্রপ।
গত ২৪ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত এবং ১৬ এপ্রিল পাঁচ কার্যদিবসে রাষ্ট্রপ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। অন্য দিকে ৩ থেকে ১৬ এপ্রিল চার কার্যদিবসে আসামিপে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন কামারুজ্জামানের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক ও আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিকী।
মুক্তিযুদ্ধের সময় কামারুজ্জামান এইচএসসির ছাত্র ছিলেন এবং বাড়িতেই অবস্থান করতেন
মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের বড় ভাই মো: কফিল উদ্দিন গত ১৩ মার্চ ট্রাইব্যুনালে দেয়া সাক্ষ্যে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় কামারুজ্জামান আমাদের বাড়িতেই অবস্থান করত। কামারুজ্জামান যুদ্ধাকালীন সময়ে শেরপুর শহরের মাটি মাড়ায়নি। সে তখন এইচএসসির ছাত্রছিল। জবানবন্দীতে তিনি বলেছিলেন, ১৯৬৭ সালে কামারুজ্জামান জিকে স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাস করেন। তারপর জামালপুর আশেক মাহমুদ কলেজে আইএসসিতে ভর্তি হয়। কিন্তু ফাইনাল পরীক্ষা সময় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। যেহেতু সে পরের বছর একই কলেজ থেকে জুনিয়রদের সাথে পরীক্ষা দিতে রাজি হয়নি সেহেতু তাকে ময়মনসিংহ নাসিরাবাদ কলেজে ভর্তি করি। নাসিরাবাদ কলেজে ভর্তি হওয়ার পর দেশে আন্দোলন শুরু হয়, তখন আমার মা বললেন, তাকে তুমি ময়মনসিংহ থেকে নিয়ে এসো। তখন আমি ময়মনসিংহ গিয়ে আমার ভাই কামারুজ্জামানকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসি। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সরকার আইএ পরীক্ষার সময়সূচি দিয়েছিল, সেই পরীক্ষায় আমার ভাই অংশগ্রহণ করেনি। পরে ১৯৭২ সালে নাসিরাবাদ কলেজ থেকে একই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে দ্বিতীয় বিভাগে পাস করে। স্কুল বা কলেজ (আশেক মাহমুদ ও নাসিরাবাদ) লেখাপড়া কালীন সময় কখনো রাজনীতি করত না। যুদ্ধকালীন সময়ে সে আমাদের বাড়িতেই অবস্থান করত। [সূত্র]
মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের বড় ভাই মো: কফিল উদ্দিন গত ১৩ মার্চ ট্রাইব্যুনালে দেয়া সাক্ষ্যে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় কামারুজ্জামান আমাদের বাড়িতেই অবস্থান করত। কামারুজ্জামান যুদ্ধাকালীন সময়ে শেরপুর শহরের মাটি মাড়ায়নি। সে তখন এইচএসসির ছাত্রছিল। জবানবন্দীতে তিনি বলেছিলেন, ১৯৬৭ সালে কামারুজ্জামান জিকে স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাস করেন। তারপর জামালপুর আশেক মাহমুদ কলেজে আইএসসিতে ভর্তি হয়। কিন্তু ফাইনাল পরীক্ষা সময় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। যেহেতু সে পরের বছর একই কলেজ থেকে জুনিয়রদের সাথে পরীক্ষা দিতে রাজি হয়নি সেহেতু তাকে ময়মনসিংহ নাসিরাবাদ কলেজে ভর্তি করি। নাসিরাবাদ কলেজে ভর্তি হওয়ার পর দেশে আন্দোলন শুরু হয়, তখন আমার মা বললেন, তাকে তুমি ময়মনসিংহ থেকে নিয়ে এসো। তখন আমি ময়মনসিংহ গিয়ে আমার ভাই কামারুজ্জামানকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসি। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সরকার আইএ পরীক্ষার সময়সূচি দিয়েছিল, সেই পরীক্ষায় আমার ভাই অংশগ্রহণ করেনি। পরে ১৯৭২ সালে নাসিরাবাদ কলেজ থেকে একই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে দ্বিতীয় বিভাগে পাস করে। স্কুল বা কলেজ (আশেক মাহমুদ ও নাসিরাবাদ) লেখাপড়া কালীন সময় কখনো রাজনীতি করত না। যুদ্ধকালীন সময়ে সে আমাদের বাড়িতেই অবস্থান করত। [সূত্র]

No comments:
Post a Comment